প্রতিবেদক, পঞ্চগড়

পঞ্চগড়, ২৮ মার্চ: পঞ্চগড় জেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে এক বৃদ্ধার মৃত্যু এবং দুইজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে ঘরবাড়ি, ফসল ও ফলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ঝড়ের সময় ও পরিস্থিতি
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টিপাত ও বড় আকারের শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। পরে রাত ১২টার পর কালবৈশাখী ঝড়ের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাতাসের গতি ও বজ্রপাতের তীব্রতা ক্রমেই বাড়তে থাকে, ফলে জনজীবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গাছচাপায় বৃদ্ধার মৃত্যু
সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চানপাড়া এলাকায় চাকাতি বালা (বৃদ্ধা) নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় প্রবল বাতাসে ঘরের পাশে থাকা একটি বড় গাছ উপড়ে পড়ে তার বসতঘরের ওপর। এতে ঘরটি ধসে পড়ে এবং গাছের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দেয়াল ধসে দম্পতি আহত
অন্যদিকে, ধাক্কামারা ইউনিয়নের স্টেশন এলাকায় ময়নুল ইসলাম ও তার স্ত্রী খুকুমনি সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। ঝড়ের সময় পাশের তিনতলা একটি ভবনের ছাদের ইটের দেয়াল ভেঙে তাদের ঘরের ওপর পড়ে। এতে টিনের চালা ধসে পড়ে এবং তারা মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল এ ভর্তি করেন।
ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
শনিবার সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঝড় ও শিলার আঘাতে বহু ঘরের টিনের চাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সদর ও আটোয়ারী উপজেলায় রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ভুট্টা, গম ও শাকসবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি লিচু ও আমের মুকুলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন কৃষকেরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কতা
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, মৌসুমি বায়ুর হঠাৎ সক্রিয়তার কারণে এই বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগামী ১ এপ্রিল জেলাজুড়ে বিচ্ছিন্নভাবে আরও শক্তিশালী ঝড়ো হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং শিলাবৃষ্টির উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।


