অনলাইন ডেস্ক

রামাল্লাহ/জেরুজালেম | রয়টার্স : অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তার ধারে নামাজরত এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তির ওপর গাড়ি তুলে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) সংঘটিত এই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে হামলার দৃশ্য স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।
কী দেখা গেছে ভিডিওতে
ফিলিস্তিনি টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, বেসামরিক পোশাক পরা এক ব্যক্তি কাঁধে বন্দুক ঝুলিয়ে একটি ‘অফ-রোড’ গাড়ি চালাচ্ছেন। গাড়িটি রাস্তার পাশে নামাজরত এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তির দিকে সরাসরি এগিয়ে গিয়ে তার ওপর তুলে দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটে কোনো ধরনের উসকানি বা সংঘর্ষ ছাড়াই, যা ভিডিওতে প্রতীয়মান।
ভুক্তভোগীর অবস্থা
হামলার পর ওই ফিলিস্তিনি ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি গুরুতর আহত হননি। বর্তমানে তিনি বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছেন।
ইসরায়েলি বাহিনীর বক্তব্য
রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন রিজার্ভ সৈন্য। ঘটনার পর তাকে সামরিক দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই সৈন্যকে বর্তমানে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। তবে ইসরায়েলি পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে কোনো জবাব দেয়নি।
ক্রমবর্ধমান বেসামরিক হামলা
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তথ্যে উঠে এসেছে, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বেসামরিক হামলার ঘটনা চলতি বছরে কয়েকগুণ বেড়েছে।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়ে পশ্চিম তীরে এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডগুলোর বড় একটি অংশ ঘটেছে নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীদের অভিযানে।
মানবাধিকার উদ্বেগ
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, নামাজরত একজন নিরস্ত্র বেসামরিক ব্যক্তির ওপর এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে এমন সহিংসতা আরও উৎসাহিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।
পশ্চিম তীরে নামাজরত ফিলিস্তিনির ওপর গাড়ি হামলার এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং এটি চলমান দখলদারিত্ব ও বেসামরিক সহিংসতার গভীর সংকটকে নতুন করে সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও জবাবদিহিমূলক বিচার ছাড়া এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


