বিজ্ঞান ডেস্ক

প্রতিদিন আমাদের শরীর অসংখ্য জীবাণুর আক্রমণের মুখোমুখি হয়। এই জীবাণুগুলো থেকে আমাদের দেহকে রক্ষা করে রোগ প্রতিরোধতন্ত্র। সহজভাবে বলতে গেলে, এটি আমাদের দেহের একটি প্রাকৃতিক নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিভিন্ন ধরনের জীবাণু আমাদের দেহে প্রবেশ করে এবং কখনও কখনও তারা আমাদের নিজের কোষের রূপও ধারণ করতে পারে। এই ধরনের ছদ্মবেশী জীবাণুকে চিনে নিরাপত্তা কোষগুলো শুধুমাত্র জীবাণুকে আক্রমণ করে এবং নিজের দেহের কোষকে রক্ষা করে।
কিন্তু কখনও কখনও দেহের এই সতর্ক প্রহরীরা ভুল করে নিজের কোষকেও আক্রমণ করতে শুরু করে। এ অবস্থাকে অটোইমিউন রোগ বলা হয়। অর্থাৎ, দেহের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিজের কোষকে আক্রমণ করে, যার ফলে রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস, টাইপ-১ ডায়াবেটিসের মতো রোগ সৃষ্টি হয়।
এই ‘কে বন্ধু, কে শত্রু’ চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াটি দেহের নিরাপত্তাব্যবস্থা কীভাবে পরিচালনা করে তা এবারের নোবেলজয়ীরা উদঘাটন করেছেন। মেরি ব্রাঙ্কো, ফ্রেড রামসডেল এবং শিমন সাকাগুচিকে এই গবেষণার জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে। তাদের গবেষণা দেখিয়েছে কীভাবে দেহের নিরাপত্তা কোষগুলো ‘প্রান্তিক সহনশীলতা’ (Peripheral Tolerance) বজায় রেখে জীবাণুকে আক্রমণ করে, কিন্তু নিজের টিস্যু বা অঙ্গকে আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এটি দেহের নিরাপত্তাব্যবস্থার একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভারসাম্য, যা সুস্থতা নিশ্চিত করে।
দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শুধুমাত্র জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করে না, বরং নিজের কোষকে সঠিকভাবে চিনে রক্ষা করে। নোবেলজয়ী এই গবেষণা আমাদের বুঝতে সাহায্য করেছে কিভাবে এই ভারসাম্য বজায় থাকে এবং অটোইমিউন রোগ কেন এবং কীভাবে সৃষ্টি হয়। ভবিষ্যতে এই গবেষণা অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দেবে।


