শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২৬

দুই সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, আকাশে জোটের আধিপত্য—কৌশলগত চাপে ইরান

পাঠক প্রিয়

অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ দুই সপ্তাহ পার হতে না হতেই একটি জটিল ও বহুমাত্রিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। একদিকে রয়েছে Iran, অন্যদিকে United StatesIsrael নেতৃত্বাধীন জোট। তবে সংঘাত এখন শুধু আকাশযুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই; গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, জ্বালানি অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি সংঘর্ষের মাধ্যমে যুদ্ধের পরিধি দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে।

যুদ্ধের শুরুতে পশ্চিমা বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, ব্যাপক সামরিক চাপের মুখে তেহরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। কিন্তু যুদ্ধের চতুর্দশ দিনে এসে সেই ধারণা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং ইরান সুসংগঠিতভাবে প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের প্রশাসনিক ও সামরিক কাঠামো কার্যকর রয়েছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

আকাশে জোটের আধিপত্য

আকাশপথে লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। আধুনিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা ইরানের আকাশসীমার কিছু অংশে কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

তবে এই আকাশ শ্রেষ্ঠত্ব স্থল বা সমুদ্রপথের যুদ্ধক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর হচ্ছে না। বিশেষ করে Persian Gulf এবং Gulf of Oman এলাকায় ইরান তাদের নৌ-সক্ষমতা প্রদর্শন করে যাচ্ছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি করে তেহরান বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

নেতৃত্বে দ্রুত পুনর্গঠন

যুদ্ধের প্রথম দিকে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা নিহত হন বলে বিভিন্ন পশ্চিমা গণমাধ্যমে দাবি করা হয়। তবে তেহরান দ্রুত নতুন নেতৃত্ব সামনে এনে কমান্ড কাঠামো সচল রাখে।

ইতোমধ্যে দেশটির প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব Mojtaba Khamenei–কে ক্ষমতার শীর্ষ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে তুলে আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তার সমর্থনে রাজধানী তেহরানে জনসমাবেশও দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে পাল্টা কৌশল

ক্রমাগত বিমান হামলার মধ্যেও ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে আগের তুলনায় ভারী ও শক্তিশালী ওয়ারহেড ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

এর ফলে ইসরায়েলের বড় শহরগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রাজধানী তেল আবিবে বহু বাসিন্দাকে আশ্রয়কেন্দ্র বা বাঙ্কারে অবস্থান নিতে হচ্ছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ইরান সস্তা ড্রোনের বড় বহর ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে ব্যস্ত ও ক্লান্ত করে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

জ্বালানি অবকাঠামোতে সীমিত সংঘর্ষ

সংঘাতের শুরুতে উভয় পক্ষের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটলেও পরে একটি অঘোষিত সংযম লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করায় এবং বৈশ্বিক চাপের মুখে বড় আকারের হামলা আপাতত সীমিত রাখা হয়েছে।

তবে Strait of Hormuz–এ নিরাপত্তাহীনতার কারণে তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী ট্যাঙ্কার সুরক্ষার উদ্যোগ নিলেও ইরানি নৌ উপস্থিতি সেই পরিকল্পনাকে কঠিন করে তুলেছে।

প্রক্সি সংঘাতে বিস্তৃত যুদ্ধ

ইরান এই সংঘাতে আঞ্চলিক মিত্রদের সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছে বলে বিভিন্ন নিরাপত্তা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন Hezbollah এবং ইরাকভিত্তিক বিভিন্ন গোষ্ঠী নিয়মিতভাবে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে ইয়েমেন থেকে লোহিত সাগরে হামলার হুমকিও বাড়ছে। এতে সংঘাতটি মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় ইরানে

যুদ্ধ চলাকালে ইরানের ভেতরে বড় ধরনের গণবিক্ষোভ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার খবর পাওয়া যায়নি। Donald TrumpBenjamin Netanyahu ইরানি জনগণকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামার আহ্বান জানালেও তা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি।

ইরানি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা এ পর্যন্ত শতাধিক মার্কিন ও ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং সাইবার হামলাও সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়যুদ্ধের আশঙ্কা

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কার্যকর আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীও এখনো সামনে আসেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এগিয়ে থাকলেও ইরান তাদের ভৌগোলিক অবস্থান, ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার কৌশল নিচ্ছে।

ফলে দুই সপ্তাহের মাথায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে, এই সংঘাতে কোনো পক্ষই দ্রুত বিজয় অর্জন করতে পারছে না। বরং যুদ্ধটি ধীরে ধীরে একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে, যেখানে কৌশলগত ধৈর্য ও সম্পদের ব্যবস্থাপনাই শেষ পর্যন্ত ফলাফল নির্ধারণ করতে পারে।

সূত্র: West Asia News Agency (ডব্লিউএএনএ)

 

 

সর্বশেষ সংবাদ

প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান, নাকি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সূচনা?

সুফি সাগর সামস বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের সংঘাতমুখী রাজনীতি, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে প্রতিশোধের সংস্কৃতি,...

শিরোনাম: চীন-মিয়ানমার করিডরে যুক্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় চীনে পৌঁছাবে বাংলাদেশের পণ্য: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাকে করে বাংলাদেশ থেকে চীনে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী...

জাবির বাজেট ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা, গবেষণায় বরাদ্দ শূন্য

স্টাফ রিপোর্টার | জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট। শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায়...

বিশ্বকাপ জিতবে রোনালদোর পর্তুগাল’—ঘানার পুরোহিতের চাঞ্চল্যকর দাবি

স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এক চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন ঘানার আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব নানা কোয়াকু বোনসাম। তার দাবি, আগামী বিশ্বকাপে...

বিয়েতে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে অতিরিক্ত জনপ্রতি ১ হাজার টাকা ট্যাক্সের প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা: বিয়ের অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে অতিরিক্ত প্রত্যেক অতিথির জন্য এক হাজার টাকা করে সরকারি ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের...

জনপ্রিয় সংবাদ