অনলাইন ডেস্ক

সম্প্রতি সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ইরান। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এ আন্দোলন। ইরান সরকারের অভিযোগ, এই বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধন রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার প্রকাশ্যে ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানান এবং হুমকিমূলক বক্তব্য দেন। একইসঙ্গে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ বিক্ষোভে উসকানি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে দাবি করছে তেহরান।
এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর দিকে পাচারের আগেই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র জব্দ করেছে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কমান্ড (ফারাজা) এক বিবৃতিতে জানায়, বুশেহর প্রদেশে অভিযান চালিয়ে দাঙ্গাকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৬০ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র তেহরানে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল বলে জানানো হয়। অভিযানের সময় দুইজন সন্ত্রাসীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া ইরানের গোয়েন্দা বাহিনী একটি ‘বিপজ্জনক ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ শনাক্ত করে এর সদস্যদের আটক করেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে এই চক্রটি প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছিল এবং পরিস্থিতিকে রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ দেওয়াই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।
স্থানীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া সন্ত্রাসী চক্রটি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের মাধ্যমে উন্নত নগর যুদ্ধ কৌশলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্ধারিত মূল হোতাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও নগর যুদ্ধের সরঞ্জাম সংগ্রহ করে তারা রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চলাচল করে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে শত শত মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
চক্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছবিতে একে-৪৭ রাইফেল, শটগানসহ বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র এবং স্যাটেলাইট ফোনের মতো যোগাযোগ সরঞ্জাম বিতরণের দৃশ্য দেখা গেছে। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীরা ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে বলে অভিযোগ ইরানি কর্তৃপক্ষের।
এছাড়া চক্রটির সদস্যরা সামরিক ও পুলিশ সদর দপ্তরে হামলা চালায়, অস্ত্র লুট করে এবং নগর যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে সেগুলো বিতরণ করে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
ইরানের কর্মকর্তারা এসব দাঙ্গা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সরকারের প্রত্যক্ষ ভূমিকার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, মোসাদ মাঠপর্যায়েও সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল।
এ প্রসঙ্গে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর একটি টুইটের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তিনি লেখেন, “রাস্তায় থাকা প্রতিটি ইরানিকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। আর তাদের পাশে হাঁটা প্রতিটি মোসাদ এজেন্টকেও।”
এছাড়া ফারসি ভাষায় দেওয়া একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে মোসাদ দাঙ্গাকারীদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে বলে, “এখনই সময়। একসঙ্গে রাস্তায় বেরিয়ে আসুন।” পোস্টে আরও দাবি করা হয়, মোসাদ এজেন্টরা দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে মাঠপর্যায়েও রয়েছে।
সূত্র: প্রেসটিভি


