আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজায় চলমান সামরিক অভিযান এবং সম্ভাব্য ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ঘিরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব। শনিবার রাতে শহরের হাবিমা স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত বৃহৎ সমাবেশ থেকে অন্তত ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, শান্তির আহ্বান জানিয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিটি ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিল, যেখানে প্রায় ১,২০০ জন অংশ নেন। আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও আইন শিক্ষার্থী ইতমার গ্রিনবার্গ গ্রেফতারের পর মুক্তি পেয়ে জানান, শুরুতে মাত্র কয়েকজন নিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও এখন তা ব্যাপক জনসমর্থন অর্জন করেছে।
আন্দোলনের পটভূমি ও দাবি
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন না; বরং গাজা সংঘাত ও আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান চান। গ্রিনবার্গের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলে আগে এই যুদ্ধবিরোধী অবস্থান মূলত কট্টর বামপন্থীদের মধ্যে সীমিত থাকলেও বর্তমানে উদারপন্থী ইহুদিবাদীরাও এতে যুক্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়িত্ব, রিজার্ভ সেনাদের অনুপস্থিতি এবং জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা জনমনে চাপ বাড়িয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে রাস্তায়।
পুলিশি ব্যবস্থা ও অভিযোগ
গ্রেফতারের সময় পুলিশের আচরণ নিয়ে বিক্ষোভকারীরা “অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের” অভিযোগ তুলেছেন। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েল পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই বিক্ষোভ ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে আগাম নির্বাচনের দাবিকে জোরালো করতে পারে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এ পরিস্থিতি গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের White House এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই গাজা পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে। অভ্যন্তরীণভাবে জনসমর্থনের পরিবর্তন এসব কূটনৈতিক চাপকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠন Amnesty International বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার ও পুলিশের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি এটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে।
প্রেক্ষাপট
গত কয়েক মাস ধরে গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাত এবং সম্ভাব্য আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে যুদ্ধনীতি নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। শনিবারের এই বিক্ষোভ সেই পরিবর্তিত জনমতেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


