
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রায় তিন দশক আগে বাংলাদেশের সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজন করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার (Caretaker Government) ব্যবস্থা। মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অবাধ ও সুষ্ঠু করা। এই প্রক্রিয়ার অধীনে তিনটি জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছিল, যা তখন স্বীকৃত ও তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ বলে গণ্য হয়েছিল।
তবে এক দশক আগে সর্বোচ্চ আদালত ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করলে নির্বাচনকালীন এই বিশেষ সরকার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। পরে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়াটি বাদ দেওয়া হয়। এরপর অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনকে নিয়েও নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের ওপর ভোট প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপের পর থেকেই দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনকালীন সরকারের অভাবে সাধারণ জনগণ ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থাহীনতা এবং সংঘাতও বেড়েছে।
কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছিল এমন একটি নিরাপত্তা বলয়, যা নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক চাপ এবং প্রশাসনিক প্রভাব থেকে নির্বাচনকে রক্ষা করত। এই ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিটি নির্বাচন এখন বিতর্কিত হয়ে উঠছে।”
অন্যদিকে, কিছু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক সংঘাত সম্পূর্ণরূপে কমে যায়নি। তবে অন্ততপক্ষে নির্বাচনের দিন ও ফলাফলকে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য করার ক্ষেত্রে এটি একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করত।
সংক্ষেপে বলা যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপের পর দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া যেন একটি সংকটের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলোতে আস্থা পুনঃস্থাপন এবং জনগণের ভোটের প্রতি বিশ্বাস ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।


