অনলাইন ডেস্ক

ফ্লোরিডা, ২৯ ডিসেম্বর: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ও হামাসকে সতর্ক করেছেন। ইরান যদি পুনরায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি চালু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, গাজায় হামাস যদি নিরস্ত্র না হয়, তার ভয়াবহ পরিণতি হবে।
সোমবার ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমি আশা করি তারা অস্ত্র কার্যক্রম পুনরায় শুরু করছে না। যদি করে, আমরা জানি কোথায় এগোচ্ছে এবং কী করছে।” তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার ৩৭ ঘণ্টার পথ অতিক্রম করে বি–২ বোমারু বিমানে হামলা করতে চায় না।
বৈঠকে প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল গাজায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি অগ্রগতি, ইরান ও হিজবুল্লাহকে নিয়েও ইসরায়েলের উদ্বেগ। ইরান জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের পর সম্প্রতি দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া চালিয়েছে। নেতানিয়াহু জানান, ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে সংঘাত চায় না, তবে পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক।
গাজা যুদ্ধবিরতি ও পরবর্তী পরিকল্পনা:
ট্রাম্প জানান, অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী মোতায়েনের বিষয় রয়েছে। তবে হামাস ও ইসরায়েল একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তুলায় অগ্রগতি নেই। ট্রাম্প বলেন, “হামাস যদি নিরস্ত্র না হয়, ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
পরবর্তী ধাপে ইসরায়েলের প্রত্যাহার, হামাসের অস্ত্র ত্যাগ এবং শাসন ভূমিকা পরিত্যাগের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই ধাপের আগে শেষ ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত দিতে হবে। সীমান্ত খোলার বিষয়টি এখনো মিসরের সঙ্গে চূড়ান্ত হয়নি।
তুরস্ক ও সিরিয়ার বিষয়:
ট্রাম্প বৈঠকে তুর্কি শান্তিরক্ষী মোতায়েনের সম্ভাবনাও আলোচনায় আনবেন। নেতানিয়াহু বলেন, সিরিয়ার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সীমান্ত নিশ্চিত করতে ইসরায়েল আগ্রহী। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, ইসরায়েল নতুন সিরীয় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল–শারার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে।
অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পাল্টা হামলায় তিন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।


