অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি: চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র তৃতীয় দিনে কুয়েতের আকাশসীমায় ভুলবশত প্রতিরক্ষা হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর তিনটি F-15E Strike Eagle যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ২ মার্চের এ ঘটনায় ছয়জন ক্রু সদস্য প্যারাসুটের মাধ্যমে নিরাপদে অবতরণ করেন বলে জানিয়েছে United States Central Command।
কীভাবে ঘটল ঘটনা
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রাথমিক বিবৃতিতে বলা হয়, বিমানগুলো ইরানের দিক থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকির জবাব দিতে কুয়েতের আকাশে টহলে ছিল। তীব্র উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতি প্রতিরক্ষা রাডার সিস্টেম যুদ্ধবিমানগুলোকে শত্রু হিসেবে শনাক্ত করে এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
বিমানগুলোর প্রতিটিতে দুইজন করে ক্রু—একজন পাইলট ও একজন ওয়েপন সিস্টেম অফিসার—ছিলেন। সবাই উদ্ধার হয়ে বর্তমানে স্থিতিশীল আছেন বলে জানানো হয়েছে।
কুয়েতের প্রতিক্রিয়া
কুয়েত সরকার ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক ভুল’ আখ্যা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেছে এবং যৌথ তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। আকাশসীমা সমন্বয়, পরিচয় শনাক্তকরণ (IFF) ও রাডার ডেটা শেয়ারিং প্রটোকল নিয়ে তাৎক্ষণিক পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।
রণক্ষেত্রের বাস্তবতা ও সমন্বয় সংকট
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, একই আকাশে ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল ও যুদ্ধবিমান সক্রিয় থাকলে ‘ফগ অব ওয়ার’ পরিস্থিতিতে ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। মিত্রদেশগুলোর মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময় ও একীভূত কমান্ড-এন্ড-কন্ট্রোল ব্যবস্থার ঘাটতি থাকলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন ওয়াশিংটন দাবি করছিল ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে, আঞ্চলিক আকাশসীমা এখনো অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
জনমত ও কূটনৈতিক চাপ
বিমান বিধ্বস্তের পর কুয়েতের কয়েকটি স্থানে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মার্কিন উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, মিত্রভূমিতে জনমত চাপে পড়লে যৌথ সামরিক তৎপরতায় রাজনৈতিক জটিলতা বাড়তে পারে।
এফ-১৫ই: সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা
দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল দীর্ঘপাল্লার স্ট্রাইক মিশনের জন্য পরিচিত। উন্নত সেন্সর ও রাডার (AN/APG-70) এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট থাকা সত্ত্বেও বহুমুখী হুমকিপূর্ণ পরিবেশে ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যায় না।
মার্কিন বিমানবাহিনী ধাপে ধাপে F-15EX Eagle II অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। তবে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিক সমাধান দেবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সামনের চ্যালেঞ্জ
যৌথ তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কারণ নির্ধারিত নয়। তবু এ ঘটনা আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা, IFF প্রটোকল ও মিত্র সমন্বয়ের দুর্বলতা সামনে এনেছে। অপারেশন এপিক ফিউরির পরবর্তী ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ও তার অংশীদারদের জন্য এটি কৌশলগত ও কূটনৈতিক—দুই দিকেই—গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: নাইনটিন ফোরটি ফাইভ।


