অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১১–১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘায়নের কারণে পরিস্থিতি যদি এমনই চলতে থাকে তাহলে তা “তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো বড় সংকটে” পরিণত হতে পারে। তিনি বলেন, গত মাসে প্রায় ২৫,০০০ মানুষ মারা গেছে, যাদের সর্বাধিক অংশই সৈন্যরা ছিল, এবং এই ধ্বংস ও মৃত্যুর হার সহ্য করার মতো নয়।
তিনি তীব্রভাবে মন্তব্য করেন, “আমি চাই হত্যা-হামলা বন্ধ হোক। এত মৃত্যু আর সহ্য করা যায় না। আমরা যুদ্ধ থামাতে কঠোর চেষ্টা করছি।” এবং বলেন, বড় শক্তিগুলো যদি কেবল চাপের খেলা চালিয়ে যায়, তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে উত্তেজিত হতে পারে।
ট্রাম্পের পর্যবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
শান্তির তাগিদ ও অবস্থান
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যমণি হিসেবে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষকেই শান্তি আলোচনা ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি বলছেন যুদ্ধ কিছুতেই দীর্ঘায়িত হওয়া উচিত না, কারণ তার মতে তা শুধু ক্ষেত্রবিশেষের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্বের অন্যান্য নেতারা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা একই সঙ্গে সতর্ক করছেন যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনই থামানো না গেলে বহুদেশীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং এটি শীতল যুদ্ধ / বড় আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা ও ব্যাখ্যা
কেন ‘World War III’ কথাটি উঠছে?
ট্রাম্পর এমন মন্তব্যের পেছনে মূল উদ্বেগ হলো:
-
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সামরিক খরচ ও নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি,
-
প্রচলিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর ডিগ্রীশীল ভাঙন,
-
বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভুল হিসাব বা প্রতিক্রিয়া বিশ্বব্যাপী সংঘাতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা।
বিশ্ব রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান সময়ে কোনো আঞ্চলিক সংঘাত বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের সরাসরি কারণ নয় — তবে তা বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভুল কূটনৈতিক বা সামরিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে রিস্ক ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করতে পারে। B
মানবিক ও কূটনৈতিক প্রভাব
যুদ্ধের মানবিক খরচ
ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, শুধুমাত্র গত এক মাসে যুদ্ধের কারণে প্রায় ২৫,০০০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার বেশিরভাগ যারা মারা গেছেন তারা সৈন্য, কিন্তু অনেকে বেসামরিক লোকও আক্রান্ত হয়েছেন — এটা যুদ্ধের মানবিক ব্যয়কে আরও গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরে।
কূটনৈতিক চাপ ও সামনের ধাপ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নেতাদের সাথে আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এখনো কোনো সমঝোতা আলোচনায় নির্দিষ্ট ফল পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের মূল বক্তব্য:
-
যুদ্ধের দীর্ঘায়ন বিশ্ব-ব্যাপী নিরাপত্তায় বড় হুমকি তৈরি করছে।
-
উচ্চ মৃত্যুহার ও সংঘাতের দাপট ইতোমধ্যেই বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
-
যুদ্ধ অবিলম্বে থামানোর প্রয়োজন যাতে এটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো বিশাল সংকটে পরিণত না হয়।
বিশ্ব নেতারা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা থাকা-যাওয়া রাজনীতি ও শক্তি ভারসাম্যের ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যদিও সরাসরি ‘বর্তমান তৎপরতায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু’ হবে এমন দাবিগুলো এখনও বিশ্লেষণের বিষয়।


