রবিবার, মে ১০, ২০২৬

টেকটোনিক তিন ফল্টের কারণে উচ্চ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

পাঠক প্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অত্যন্ত সক্রিয় তিনটি টেকটোনিক প্লেট—ভারত, মিয়ানমার ও ইউরেশীয় প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশি–বিদেশি ভূতাত্ত্বিক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা। শনিবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত ‘আর্থকুয়েক অ্যাওয়ারনেস, সেফটি প্রটোকল অ্যান্ড ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এই সতর্কবার্তা দেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড

তিন সক্রিয় ফল্টলাইনে বাংলাদেশ

বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশকে ঘিরে থাকা তিনটি সক্রিয় ফল্টলাইন যেকোনো সময় শক্তিশালী ভূমিকম্পের জন্ম দিতে পারে:

১. সিলেটের ডাউকি ফল্ট

২. চট্টগ্রাম–টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত চিটাগং-আরাকান ফল্ট

৩. মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট

এই তিনটি ভূকম্পন–সক্রিয় ফল্টলাইনের সম্মিলিত প্রভাব বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক দশকে এই অঞ্চলগুলোতে টেকটোনিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে; যা বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

দ্রুত নগরায়ণ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে

সেমিনারে বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক কারণে ঝুঁকি থাকলেও মানবসৃষ্ট ত্রুটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

  • অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ,

  • ঘনবসতি,

  • সংকীর্ণ সড়ক,

  • বিল্ডিং কোড না মানা,

  • দুর্বল অবকাঠামো,

এসব কারণে রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতে ভূমিকম্প হলে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, যথাযথ পরিকল্পনা ও ভবন নির্মাণে আন্তর্জাতিক মান বজায় না রাখলে বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর উদ্ধার তৎপরতা বাধাগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে পুরান ঢাকা, চট্টগ্রাম শহর এবং সিলেট মহানগর এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

সতর্কতা ও প্রস্তুতির ওপর জোর

সেমিনারে বক্তারা ভূমিকম্প মোকাবিলায় নিম্নলিখিত উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন—

  • জাতীয় পর্যায়ে আধুনিক ভূমিকম্প মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা

  • বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন

  • জরুরি উদ্ধার সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে ভূমিকম্প–সচেতনতা প্রশিক্ষণ

  • নাগরিক পর্যায়ে ইমার্জেন্সি কিট প্রস্তুত রাখা

আয়োজক জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, টেকসই নগর উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য তাদের প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবেই সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু প্রস্তুতি ও সচেতনতার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এজন্য সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা ও প্রস্তুতি জরুরি বলে তাঁরা মত দেন।

সর্বশেষ সংবাদ

ময়মনসিংহ ও সিলেটে ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে

অনলাইন ডেস্ক দেশের দুই অঞ্চলে সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সম্ভাব্য এই দুর্যোগে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০...

ডিএমপিতে পাঁচ পরিদর্শক বদলি

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পাঁচজন পরিদর্শককে বদলি করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) মো. আমীর খসরুর স্বাক্ষরিত এক আদেশে...

যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা দিচ্ছে চীন—মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

অনলাইন ডেস্ক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই তেহরানকে নতুন করে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন—এমন তথ্য দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। মার্কিন...

হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ১৬৯

অনলাইন ডেস্ক দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫...

কাতারে ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। যদিও...

জনপ্রিয় সংবাদ