অনলাইন ডেস্ক

ইরানে কর্তৃপক্ষের জারি করা দেশব্যাপী ইন্টারনেট শাটডাউন টানা ১৩২ ঘণ্টারও বেশি সময় অতিক্রম করেছে। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস। ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি এই খবর প্রকাশ করেছে।
নেটব্লকস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে জানায়, “পরিমাপক তথ্য বলছে, নতুন একটি দিনে জেগে উঠলেও ইরান এখনো অনলাইনের বাইরে। দেশজুড়ে বিরাজ করছে ডিজিটাল অন্ধকার।” সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে, ইন্টারনেট সংযোগ পুনরুদ্ধারের কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে, মানবাধিকারকর্মী ও পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর আশঙ্কা—চলমান বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের প্রকৃত চিত্র আড়াল করতেই এই দীর্ঘস্থায়ী ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দেশটির ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
অধিকারকর্মীরা বলছেন, ইন্টারনেট শাটডাউন কেবল মতপ্রকাশের স্বাধীনতাই খর্ব করছে না, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, জরুরি যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাস্থ্যসেবাতেও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপ বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা অনেকের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
এর আগে ইরানে বিভিন্ন সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট সীমিত বা সম্পূর্ণ বন্ধ করার নজির রয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এবারের শাটডাউন সময়ের দিক থেকে অন্যতম দীর্ঘ এবং ব্যাপক।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগ পুনর্বহাল ও তথ্যপ্রবাহ স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো।


