অনলাইন ডেস্ক

জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বকেয়া বাজেটের কত অংশ এবং কবে পরিশোধ করবে—এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংস্থাটি। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিকভাবে অর্থপরিশোধের আশ্বাস দেওয়ার পর সোমবার এ কথা জানানো হয়।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক ব্রিফিংয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বিবৃতি সংস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি জানান, মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ বিষয়ে কিছুদিন ধরে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘের বাজেট কন্ট্রোলারও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন।
ডুজারিক বলেন, সংস্থাটি এখন জানতে চায়—ঠিক কখন এবং কত পরিমাণ বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হবে।
এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে লেখা এক চিঠিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, বকেয়া আদায় না হলে সংস্থাটি ‘আসন্ন আর্থিক ধসের’ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, সংস্থাটির নিয়মিত বাজেটে অনাদায়ী বকেয়ার ৯৫ শতাংশেরও বেশি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাওনা। ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্ত নিয়মিত বাজেটে যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া রয়েছে ২১৯ কোটি ডলার। এছাড়া শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য আরও ২৪০ কোটি ডলার এবং ট্রাইব্যুনালগুলোর জন্য ৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলার বকেয়া রয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, গত বছর নিয়মিত বাজেটে কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ২০২৫ সালের বকেয়া ৮২ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত ৭৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারসহ পুরনো বকেয়া মিলিয়ে মোট দেনা ৪৬০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
গত শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, খুব শিগগিরই প্রাথমিক কিস্তি হিসেবে একটি অর্থপরিশোধ দেখা যাবে। তিনি বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক বকেয়ার উল্লেখযোগ্য অংশের ডাউন পেমেন্ট হবে।
এই অর্থ গত বছরের নাকি ২০২৬ সালের নাকি দুই বছরেরই বকেয়া—এ প্রশ্নের জবাবে ওয়াল্টজ বলেন, সাধারণভাবে এটি বকেয়া পরিশোধের অংশ হবে এবং একই সঙ্গে কিছু সংস্কারের স্বীকৃতি হিসেবেও দেওয়া হবে।
সূত্র: রয়টার্স


