আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ওয়াশিংটন/অটোয়া | রয়টার্স : চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির পথে হাঁটলে কানাডার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক কড়া বার্তায় তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের কোনো পদক্ষেপ কানাডাকে গুরুতর বিপদের মুখে ঠেলে দেবে।
ট্রাম্প লিখেছেন, “চীন কানাডাকে জ্যান্ত গিলে খাবে। তারা কানাডার ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক কাঠামো এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে ধ্বংস করে দেবে।” তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, কানাডা যদি চীনের সঙ্গে কোনো চুক্তি করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী সব কানাডীয় পণ্য ও সামগ্রীর ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
ট্রাম্পের এই হুমকির পর সরাসরি তার নাম উল্লেখ না করলেও এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি দেশের অর্থনীতি রক্ষায় কানাডীয় নাগরিকদের দেশীয় পণ্য কেনার আহ্বান জানান।
কার্নি বলেন, “বিদেশি হুমকির মুখে আমাদের অর্থনীতি এখন বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। অন্য দেশ কী করবে তা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, তবে আমরা নিজেদের সেরা গ্রাহক হয়ে উঠতে পারি।”
উল্লেখ্য, চলতি মাসেই মার্ক কার্নি চীন সফর করেন এবং কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। লক্ষণীয় বিষয় হলো, গত ১৬ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প তখন এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, চীনের সঙ্গে চুক্তি করা একটি ভালো পদক্ষেপ। তবে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তার অবস্থানে নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গেল।
এদিকে কানাডার পাবলিক সেফটি ও কানাডা-মার্কিন বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক দাবি করেছেন, চীনের সঙ্গে কোনো “মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি” হচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, কিছু নির্দিষ্ট শুল্কসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করাই আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল।
অন্যদিকে, কানাডায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুই দেশের নেতাদের মধ্যে হওয়া ঐকমত্য বাস্তবায়নে তারা প্রস্তুত এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা করেছিলেন মার্ক কার্নি। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ব্যক্তিগত রেষারেষি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখার কৌশল থেকেই ট্রাম্প কানাডার বিরুদ্ধে এমন নজিরবিহীন বাণিজ্যিক হুমকি দিয়েছেন।


