অনলাইন ডেস্ক

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনারা সরে গেছে। ঘাঁটিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি তাদের নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত অন্যান্য দেশের সেনারাও অবস্থান করছিল। মার্কিন ও জোট সেনারা চলে যাওয়ার পর ঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরাকের সেনাবাহিনী।
শনিবার ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
২০২০ সালে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের অভিজাত কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হন। এর প্রতিশোধ হিসেবে একই বছর ইরান আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটিতে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ওই হামলায় ঘাঁটিটির অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় সেখানে অবস্থানরত বহু মার্কিন সেনা গুরুতর মানসিক আঘাতের শিকার হন বলে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করেছিল।
২০২৪ সালে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ধাপে ধাপে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়। ওই চুক্তির অংশ হিসেবেই আইন আল-আসাদ ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ইরাকি সেনাবাহিনীর এক কর্নেল ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি জানান, বর্তমানে অল্প কয়েকজন মার্কিন সেনা এখনও সেখানে অবস্থান করছেন। তারা শুধুমাত্র কিছু লজিস্টিক ও প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করার জন্য সাময়িকভাবে ঘাঁটিতে রয়েছেন। এসব কাজ শেষ হলে তারাও ইরাক ত্যাগ করবেন।
নিরাপত্তাজনিত কারণে সেনা প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ও সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
যুক্তরাষ্ট্র কবে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে শত শত মার্কিন সেনা আইন আল-আসাদ ঘাঁটি ছাড়বেন এবং ২০২৬ সালের মধ্যে ঘাঁটিটি পুরোপুরি খালি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, ফক্স নিউজ, এবিসি নিউজ


