অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেল রফতানি টার্মিনাল খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর পাল্টা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। ইরানি সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট তেল কোম্পানিগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হতে পারে।
খার্গ দ্বীপে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ এক পোস্টে দাবি করেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র Kharg Island-এ থাকা সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু “সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে”।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, দ্বীপটির মূল তেল অবকাঠামো ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে সতর্কবার্তায় বলেন, যদি ইরান বা অন্য কোনো পক্ষ Strait of Hormuz দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবে।
ইরানের পাল্টা হুমকি
ইরানের সামরিক বাহিনীর ইউনিফায়েড কমব্যাট্যান্ট কমান্ড এবং Khatam al-Anbiya Central Headquarters এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট তেল কোম্পানিগুলোর অবকাঠামো “তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করে ছাইয়ের স্তূপে পরিণত করা হবে”।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্থাপনার ওপর আঘাতকে দেশটির সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে এর জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের তেল রফতানির কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ
পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল শিল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর একটি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রফতানি এই দ্বীপের টার্মিনাল থেকেই পরিচালিত হয়।
ফলে এখানে কোনো সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত
যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে ছিল ওয়াশিংটন। এমনকি ইসরায়েল তেহরানের একটি বড় তেলের ডিপোতে হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন পরোক্ষভাবে সে হামলার সমালোচনা করেছিল।
কিন্তু খার্গ দ্বীপে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি সেই অবস্থান থেকে আংশিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
পারস্য উপসাগরের উত্তেজনা বাড়লে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন হয়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম The Guardian বলছে, পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
খার্গ দ্বীপে সামরিক হামলা ও পাল্টা প্রতিশোধের হুমকি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন সরাসরি জ্বালানি অবকাঠামোর দিকে ঝুঁকছে। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক তেল বাজারেও অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


