অনলাইন ডেস্ক

কলম্বো, ২১ ফেব্রুয়ারি: পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনকে কেন্দ্র করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সম্প্রতি একটি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মার্কিন নৌবহর যদি ইরানের জলসীমার কাছাকাছি আসে, তাহলে তা সমুদ্রের তলদেশে পাঠানো সম্ভব, এবং ইরান এই ক্ষমতা অর্জন করেছে।
বিশ্লেষকরা খামেনির এই বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘চূড়ান্ত সতর্কবার্তা’ হিসেবে দেখছেন। গত কয়েক দশকে মধ্যপ্রাচ্যে এমন সরাসরি সামরিক হুমকি বিরল। আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা চলছে, ইরানের হাতে আসলে কী ধরণের গোপন সামরিক প্রযুক্তি আছে যা মার্কিন নৌবহরকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্প্রতি বিশেষত হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখিয়েছে। বিশেষ করে ফাত্তাহ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ইরান দাবি করছে, এগুলো শব্দের চেয়ে কয়েকগুণ দ্রুত এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও ফাঁকি দিতে সক্ষম। খামেনির মন্তব্যে এই প্রযুক্তির ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
এর পাশাপাশি ইরান আত্মঘাতী ও নজরদারি ড্রোন, নৌ-প্রতিরক্ষা বোট এবং সাবমেরিন সক্ষমতাও বাড়িয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীসহ সংকীর্ণ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইরান গেরিলা কৌশলে হামলা চালাতে সক্ষম। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির হুঁশিয়ারি মূলত এই সম্মিলিত সামরিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ।
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌবহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। আমেরিকার দাবি, তাদের বিমানবাহী রণতরীগুলো বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত যুদ্ধজাহাজ এবং এগুলোর চারপাশের সুরক্ষা বলয় ভেদ করা প্রায় অসম্ভব। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আধুনিক যুদ্ধ কৌশল এবং প্রযুক্তির বিকাশের কারণে বৃহৎ নৌবহরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্ববাজারে এ উত্তেজনার প্রভাবও ইতিমধ্যেই দেখা দিয়েছে। পারস্য উপসাগর বিশ্বের তেলের প্রধান রুট, এবং কোনো সংঘাত হলে তেলের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।
খামেনির হুঁশিয়ারি শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


