অনলাইন ডেস্ক

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে বড় ভুল করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক Atlantic Council–এর উপদেষ্টা এবং কিলওয়েন গ্রুপের কৌশলগত উপদেষ্টা চেয়ারম্যান Harlan Ullman।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উলম্যান বলেন, খামেনি এখন অনেকের চোখে “শহীদ”। ফলে তাকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি সহজ হবে—এমনটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। বরং এতে ইরানের অভ্যন্তরে প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হতে পারে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।
‘লারিজানি হতে পারেন ভয়ংকর প্রতিপক্ষ’
উলম্যান ইরানের প্রভাবশালী নেতা Ali Larijani–র প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যদি লারিজানি জীবিত থাকেন, তবে তিনি অত্যন্ত দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং কঠোর অবস্থান নেওয়ার সক্ষম একজন ব্যক্তি। তিনি বর্তমানে Supreme National Security Council–এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
উলম্যানের ভাষায়, “তিনি হতে পারেন ভয়ংকর শত্রু।” অনেক বিশ্লেষকই লারিজানিকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন। এ বিষয়ে উলম্যান বলেন, “আমার ধারণা, আমরা হয়তো লারিজানিকে আরও শক্তিশালী করে দিয়েছি—যা ভবিষ্যতে আমাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।”
দ্রুত সমঝোতার আশা ‘অবাস্তব’
খামেনিকে সরিয়ে দেওয়ার পর ওয়াশিংটনের উচিত দ্রুত কোনো আলোচনার আশা না করা—এমন সতর্কবার্তাও দেন উলম্যান। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, গত জানুয়ারির শুরুতে মার্কিন বাহিনীর হাতে Nicolás Maduro অপহৃত হওয়ার পর যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রেও তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
তার ভাষায়, “আমি মনে করি না এখন সহজে কোনো সমঝোতা সম্ভব।”
‘শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূল’ কৌশল নিয়ে প্রশ্ন
শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলার কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন উলম্যান। তিনি বলেন, এই ধরনের কৌশল তখনই কার্যকর হয় যখন প্রতিপক্ষের সব শীর্ষ নেতাকে একসঙ্গে কবজা করা যায়। “কিন্তু আমার মনে হয় না আমরা সব নেতাকে ধরতে পেরেছি,”—মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নেতৃত্বে সম্ভাব্য পরিবর্তন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


