ডিজিটাল ডেস্ক

রুশ জ্বালানি কেনায় ওয়াশিংটনের নীতি নিয়ে প্রশ্ন
রাশিয়ার জ্বালানি তেল ও পারমাণবিক জ্বালানি কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে ‘অবিচার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—যখন ওয়াশিংটন নিজেই রুশ জ্বালানি আমদানি করছে, তখন একই অধিকার ভারত কেন ভোগ করতে পারবে না।
দুই দিনের সফরে নয়া দিল্লিতে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা পর ‘ইন্ডিয়া টুডে’–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন:
“যুক্তরাষ্ট্র নিজেই আমাদের কাছ থেকে পারমাণবিক জ্বালানি কেনে। সেটাও তো জ্বালানি। যুক্তরাষ্ট্রের যদি আমাদের জ্বালানি কেনার অধিকার থাকে, তাহলে ভারতের সেই সুযোগ থাকবে না কেন? এই প্রশ্নটি গভীরভাবে বিশ্লেষণের যোগ্য। আমরা এটি নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রস্তুত—এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও।”
বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব আলোচনার কেন্দ্রে
পুতিনের এ সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামরিক খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
সোভিয়েত যুগ থেকেই ভারত–রাশিয়া সম্পর্ক কৌশলগত ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে টিকে আছে। ভারত রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা যন্ত্রাংশের ক্রেতা এবং দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম স্তম্ভ ছিল সামরিক সহযোগিতা।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর রুশ তেলের বড় ক্রেতা ভারত
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ভারত দ্রুত রুশ তেলের অন্যতম বড় ক্রেতায় পরিণত হয়।
বিশেষত সমুদ্রপথে ডিসকাউন্ট মূল্যে ক্রুড অয়েল কেনায় ভারতীয় রিফাইনারিগুলো বড় সুবিধা পায়। এতে রুশ তেল রপ্তানি নতুন বাজার ধরে রাখতে সক্ষম হয় এবং ভারতও আমদানি ব্যয় কমিয়ে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও ভারতের অবস্থান
ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে নয়াদিল্লির প্রতি রুশ জ্বালানি আমদানি কমানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে ভারত নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছে—
-
তাদের প্রথম অগ্রাধিকার জ্বালানি নিরাপত্তা
-
বহুমুখী কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা
-
এবং সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করা
পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্য তাই ভারতকে কূটনৈতিকভাবে আরও স্বস্তি দেয় বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা
পুতিনের এই সফরকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্ত করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
-
জ্বালানি সহযোগিতা
-
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উত্পাদন
-
বাণিজ্য সম্প্রসারণ
-
এবং পারমাণবিক খাতে সহযোগিতা
—এই চারটি ক্ষেত্রেই নতুন মোড় আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।


