অনলাইন ডেস্ক

কঠোর জ্বালানি অবরোধের মধ্যেই কিউবাকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণভাবে’ দখল করে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের লনে টেক্সাস সফরে যাওয়ার আগে প্রেসিডেন্টশিয়াল হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’-এ ওঠার প্রস্তুতিকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইরান ও কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ট্রাম্প বলেন, কিউবা সরকার ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং দেশটি বর্তমানে ‘বড় সংকটে’ আছে। তাঁর ভাষ্য, “তাদের কাছে কোনও অর্থ নেই। এই মুহূর্তে তাদের কিছুই নেই, তবে তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছে।”
এরপরই তিনি বলেন, “হয়তো আমরা কিউবার একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দখল দেখতে পাব। শেষ পর্যন্ত আমরা খুব ভালোভাবেই কিউবাকে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে দখল করে নিতে পারি।”
‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ মন্তব্য
ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, কিউবা একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ এবং সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই কিউবায় পরিবর্তনের কথা শুনে আসছেন এবং এখন সেই পরিবর্তন ঘটতে দেখছেন।
এ উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিউবান-আমেরিকান বংশোদ্ভূত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio—এ তথ্যও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। রুবিও দীর্ঘদিন ধরেই কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
জ্বালানি অবরোধ ও নতুন নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্রের উপকূল থেকে মাত্র ১৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কিউবার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক ১৯৬০-এর দশক থেকেই বৈরী। সে সময় থেকে দেশটির ওপর পূর্ণ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র, যা কিউবার অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে চাপে রেখেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন জ্বালানি সরবরাহকে কেন্দ্র করে চাপ আরও বাড়িয়েছে। গত ১১ জানুয়ারি তিনি ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় আর কোনও তেল বা অর্থ যাবে না। ২৯ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশে তিনি হুমকি দেন—যেসব দেশ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কিউবাকে তেল সরবরাহ করবে, তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে।
ভেনেজুয়েলা অভিযান ঘিরে বিতর্ক
গত ৩ জানুয়ারি উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়, যখন ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro-কে অপহরণ ও আটক করার লক্ষ্যে একটি সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন বলে জানা যায়। ওই অভিযানে ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি আনুমানিক ৩২ জন কিউবান সেনা নিহত হন।
এই ঘটনার পর কিউবার ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ আরও জোরদার করে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেন, কিউবার সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা
জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, কিউবার বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা মূলত জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর। জ্বালানি সরবরাহ পুনরুদ্ধার না হলে দেশটিতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্যসংকট ও ওষুধের ঘাটতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন প্রভাব বিস্তারের নীতিকে আরও স্পষ্ট করছে। ২০২৫ সালের অভিষেক ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আবারও বর্ধিষ্ণু জাতি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন, যেখানে ভূখণ্ড সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথাও ইঙ্গিত করা হয়।
ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য কূটনৈতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কিউবা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আল-জাজিরা


