অনলাইন ডেস্ক

মধ্য এশিয়ার দেশ কাজাখস্তান আগামী ১৫ মার্চ নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। গণভোটে নতুন সংবিধান পাস হলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ ২০২৯ সালের পরও ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পেতে পারেন।
বর্তমানে তোকায়েভের ২০২৯ সালের পর শাসনক্ষমতা সংক্রান্ত কোনও নিয়ম নেই। নতুন খসড়া সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের কাঠামো পরিবর্তন করা হবে—দুই কক্ষের পার্লামেন্টের পরিবর্তে এককক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠন করা হবে এবং আইনপ্রণেতার সংখ্যা কমানো হবে। এছাড়া, ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ পুনর্বহাল করা হবে, যা ১৯৯৬ সালে বিলুপ্ত হয়েছিল।
তোকায়েভ ২০২২ সালে নিজেই এক মেয়াদে সাত বছরের প্রেসিডেন্ট থাকার নিয়ম চালু করেছিলেন। নতুন খসড়াতেও এই সীমাবদ্ধতা বজায় রাখা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন সংবিধান পাস হলে তার আগের মেয়াদ পুরনো সংবিধানের আওতাভুক্ত বলে গণ্য হবে, যা তাকে পুনরায় নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে পারে।
এ ধরনের সংবিধান সংশোধন পূর্বেও রাশিয়া, বেলারুশ ও উজবেকিস্তানে ঘটেছে। কাজাখস্তানে এই গণভোট এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যখন ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং করের বোঝা বেড়েছে।
২০১৯ সালে নূরসুলতান নাজারবায়েভের উত্তরসূরি হিসেবে তোকায়েভ ক্ষমতায় আসেন। ২০২২ সালের প্রাণঘাতী দাঙ্গার পর তিনি নাজারবায়েভের সমস্ত প্রভাব দূর করেছেন। বিশ্বে মোট তেলের প্রায় ২ শতাংশ উৎপাদনকারী দেশটি বর্তমানে পশ্চিমা দেশ, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সমন্বিত সম্পর্ক বজায় রাখছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন সংবিধানের অধীনে তোকায়েভের পুনরায় ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা থাকলেও এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।


