কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এলাকায় ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার মরদেহগুলো বুঝে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ির পথে রওনা দেন স্বজনরা।
সাদা কাফনে মোড়ানো মরদেহ গ্রহণের সময় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ঈদের আনন্দের মধ্যেই প্রিয়জন হারানোর শোকে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয় সেখানে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার মো. বাবুল চৌধুরী (৫৩), সুধারাম থানার নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩), চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তাজুল ইসলাম (৬৮), লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার সায়েদা (৯), ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার লাইজু আক্তার (২৬), খাদিজা আক্তার (৬) ও মরিয়ম আক্তার (৪), কুমিল্লা সদর উপজেলার জোয়াদ বিশ্বাস (২০), মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার ফসিয়ার রহমান (২৬), চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সোহেল রানা (৪৬), যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিরাজুল ইসলাম (৬২) এবং তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৫৫)।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানিয়েছেন, নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানিয়েছেন, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে এবং আহতদের চিকিৎসার সকল ব্যয় সরকার বহন করবে।
রোববার দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
উল্লেখ্য, শনিবার (২১ মার্চ) রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী মামুন পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


