অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত ইউনিট Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের চলমান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর অংশ হিসেবে ৬৫তম দফায় ইসরায়েলের তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে।
উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম ব্যবহার
বিবৃতিতে বলা হয়, এই অভিযানে প্রথমবারের মতো মাল্টি-ওয়ারহেড প্রযুক্তিসম্পন্ন ‘নাসরুল্লাহ’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এটি কদর সিরিজের উন্নত ও গাইডেড সংস্করণ বলে দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্র একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে আঘাত হানতে সক্ষম, যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
আশদোদ ও হাইফা লক্ষ্যবস্তু
হামলার প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ইসরায়েলের দুটি বড় জ্বালানি কেন্দ্র—
-
Ashdod Oil Refinery
-
Haifa Oil Refinery
এই স্থাপনাগুলো ইসরায়েলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলার দাবি
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, এই অভিযানের পরিধি ইসরায়েলের বাইরে বিস্তৃত হয়েছে। আঞ্চলিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
হামলার লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—
-
Al-Kharj Air Base
-
Fujairah Military Facilities
-
Al Dhafra Air Base
এসব স্থাপনা মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর লজিস্টিক সহায়তা, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং বিমান রিফুয়েলিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কিয়াম, জুলফিকার এবং খাইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এসব হামলা পরিচালিত হয়েছে।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। শত্রুপক্ষের পূর্ণ পরাজয় না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি
তবে আইআরজিসির এই দাবির বিষয়ে এখনো পর্যন্ত Israel বা United States-এর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক কোনো নিরপেক্ষ সূত্র থেকেও হামলার ব্যাপকতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র: প্রেস টিভি


