বিশেষ প্রতিবেদক

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন—এমন খবরে বিশ্বজুড়ে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। যদিও বিভিন্ন সূত্রে ভিন্নমত রয়েছে, তবু সম্ভাব্য এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
হামলার পর ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে তেল আবিবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ইরানে অন্তত ২০১ জন নিহত হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
অন্তর্বর্তী নেতৃত্বে ইরান
খামেনির মৃত্যুর খবরে ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়। দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি-ইজেই অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রথম বার্তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “মুসলিম জাতির দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিকে কোনো অপরাধমূলক হামলার মাধ্যমে দমন করা যাবে না।”
যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলে হামলা হলে ইরানের বিরুদ্ধে “নজিরবিহীন শক্তি প্রয়োগ” করা হবে।
এ অবস্থায় রাশিয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং একে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। মস্কো উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
কৌশলগত ভুল?
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক Atlantic Council-এর উপদেষ্টা হেরাল উলম্যান মন্তব্য করেছেন, খামেনিকে হত্যা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে বড় ভুল হতে পারে। তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক সংঘাতকে বৈশ্বিক রূপ দিতে পারে।
বিশ্ব কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথে?
ইতিহাস বলে, ১৯১৪ সালে অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দের হত্যাকাণ্ড প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করেছিল। একটি হত্যাকাণ্ডই বিশ্বকে মহাযুদ্ধে নিমজ্জিত করেছিল। পরাজয়ের গ্লানি থেকেই জার্মানির উত্থান ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্ম।
বর্তমান বাস্তবতায়—
-
সামরিক জোটের সম্প্রসারণ
-
অস্ত্র প্রতিযোগিতা
-
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যযুদ্ধ
-
প্রযুক্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদের আধিপত্যের লড়াই
সব মিলিয়ে বিশ্বব্যবস্থা অস্থিতিশীল এক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় শক্তিগুলোর সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হলে তা দ্রুত বহুমাত্রিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
বিএইচপি’র প্রস্তাব: “ওয়ার্ল্ড সার্বভৌমত্ব” কাঠামো
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি বিশ্বশান্তি ও মানবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছে—
১️. ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড পার্লামেন্ট
সকল সার্বভৌম রাষ্ট্রকে সদস্য করে কার্যকর বৈশ্বিক পার্লামেন্ট গঠন।
২️. ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট
পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশ্ব সরকার, যা ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে।
৩️. ওয়ার্ল্ড সিকিউরিটি ফোর্স
রাষ্ট্রসমূহের সশস্ত্র বাহিনীকে একীভূত করে নিরপেক্ষ বৈশ্বিক নিরাপত্তা বাহিনী গঠন।
৪️. বৈশ্বিক সম্পদের ন্যায্য বণ্টন
প্রাকৃতিক সম্পদ অনুন্নত দেশগুলোর উন্নয়নে ব্যয় এবং জনসংখ্যাভিত্তিক সুষম কাঠামো নিয়ে আলোচনা।
মানবিক বিশ্ব গঠনের আহ্বান
বিএইচপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুফি সাগর সামস্ বলেন,
“একটি যুদ্ধ আরেকটি যুদ্ধের জন্ম দেয়। প্রতিশোধের রাজনীতি কখনো স্থায়ী শান্তি আনতে পারে না। এখন প্রয়োজন কূটনীতি, ন্যায় ও মানবিক সহযোগিতা।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট যদি বৃহৎ শক্তিগুলোর সরাসরি সামরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়, তবে তা বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলবে।
বিশ্ব এখন এক সন্ধিক্ষণে। যুদ্ধ ও প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে সরে এসে যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংলাপ ও সমঝোতার পথ বেছে নেয়, তবে বৈশ্বিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব।
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি বিশ্বাস করে—“ওয়ার্ল্ড সার্বভৌমত্ব” কাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি যুদ্ধমুক্ত, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব।


