অনলাইন ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও প্রস্তাবটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত সামনে এসেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম Channel 12–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির আঞ্চলিক প্রভাব সীমিত করা।
প্রস্তাবের প্রধান শর্তসমূহ
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শর্তগুলো হলো—
- নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদোসহ সব পারমাণবিক স্থাপনা বন্ধ ও ধ্বংস করা
- সব ধরনের পারমাণবিক কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর পূর্ণ তদারকি নিশ্চিত করা
- মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় প্রক্সি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধ করা
- বিদ্যমান পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা
- ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার লিখিত অঙ্গীকার প্রদান
- দেশের ভেতরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ এবং বিদ্যমান মজুদ হস্তান্তর
- কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সর্বদা উন্মুক্ত রাখা
- ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে সীমিত করে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক পর্যায়ে রাখা
বিনিময়ে ইরানের জন্য প্রস্তাবিত সুবিধা
প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান এসব শর্ত মেনে নিলে যুক্তরাষ্ট্র—
- বুশেহরে বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দেবে
- ইরানের ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে
- ভবিষ্যতে নতুন নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করবে
এছাড়া আলোচনার সময় এক মাসের জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো হোয়াইট হাউস বা তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের পাল্টা ৫ শর্ত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের আগে ইরানও পাঁচ দফা শর্ত দিয়েছে বলে জানা গেছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ না হওয়ার নিশ্চয়তা
- হরমুজ প্রণালি–কেন্দ্রিক নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা
- মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করা
- সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান
- আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ‘বিদ্বেষমূলক প্রচারণা’ বন্ধ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। টানা প্রায় চার সপ্তাহের এই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে।
সূত্র: BBC


