আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জেনেভা/রয়টার্স: ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন একটি পারমাণবিক চুক্তি করতে আগ্রহী যা উভয়পক্ষের অর্থনীতির জন্য লাভজনক হবে। জেনেভায় আগামী মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিতীয় পর্বের বৈঠকের আগে রোববার এ তথ্য জানান একজন ইরানি কূটনীতিক।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক দশক ধরে চলা বিরোধ মেটাতে সম্প্রতি নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বিমানবাহী রণতরী ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানসহ ব্যাপক সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছে। সম্প্রতি ওই জলসীমায় দ্বিতীয় আরেকটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানো হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, আলোচনা সফল না হলে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এদিকে, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করলে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানার চেষ্টা করবে। তবে রোববার তেহরানের কর্মকর্তারা সমঝোতামূলক চুক্তির ইঙ্গি দিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক কূটনীতি বিষয়ক উপপরিচালক হামিদ ঘানবারি ফার্স বার্তা সংস্থার বরাতে বলেন, “চুক্তির স্থায়ীত্বের স্বার্থে জরুরি যে যুক্তরাষ্ট্রও দ্রুত ও উচ্চ লাভের ক্ষেত্রগুলো থেকে সুবিধা পায়। তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র, যৌথ খনি ও বিনিয়োগ, এমনকি আকাশযান কেনার মতো পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “২০১৫ সালে ছয় বিশ্ব শক্তির সঙ্গে তেহরানের পারমাণবিক চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থকে সুরক্ষিত করতে পারেনি।”
এদিকে, ইরানের একজন মন্ত্রী বিবিসিকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে চায়, তবে ইরান তাদের সঙ্গে সমঝোতার পথে এগোতে প্রস্তুত। তেহরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তখত-রাভানচি বলেন, “যে চুক্তি করতে আমরা আগ্রহী, তা প্রমাণ করার দায় এখন ‘আমেরিকার কোর্টে’। তারা যদি আন্তরিক হয়, আমি নিশ্চিত আমরা একটি সমঝোতার পথে এগোব।”


