অনলাইন ডেস্ক

একসময় ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করত বহু আরব রাষ্ট্র। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো এখন তেহরানের ওপর মার্কিন বা ইসরায়েলি সামরিক হামলার তীব্র বিরোধিতা করছে।
আরব নেতাদের মতে, এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি ইরান নয়; বরং ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণবাদী নীতি এবং তথাকথিত ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ গঠনের আকাঙ্ক্ষা। তাদের আশঙ্কা, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে যেভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে, তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৭ মাস ধরে গাজা, পশ্চিম তীর, সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলের লাগাতার সামরিক অভিযান এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ কাতারে চালানো নজিরবিহীন হামলার পর আরব রাষ্ট্রগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। এসব ঘটনায় আরব শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে এই উপলব্ধি তৈরি হয়েছে যে, ইরানের পতন বা দেশটিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত আরব রাষ্ট্রগুলোর অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলবে।
এই পরিবর্তিত বাস্তবতার একটি বড় উদাহরণ হলো ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যকার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা। দীর্ঘদিনের বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে ২০২৩ সালে দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের কাতার সংকটের সময় রিয়াদ ও তেহরান আরও কাছাকাছি আসে। একই সঙ্গে মিশর ও কাতারও এখন ইরানকে একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
আরব দেশগুলোর মতে, ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়লে লোহিত সাগর, সুয়েজ খাল ও হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পথ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ধস নামতে পারে।
বর্তমানে ইরান অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে দুর্বল অবস্থানে থাকলেও আরব রাষ্ট্রগুলোর ধারণা, এই সময়ে দেশটিকে আরও চাপে ফেললে পরিস্থিতি উল্টো আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ব্যতীত প্রায় সব আরব দেশই এখন মনে করছে, মধ্যপ্রাচ্যের মূল অস্থিরতার জন্য ইরান নয়—ইসরায়েলের উগ্রবাদী নীতি ও আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাই দায়ী।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই আগ্রাসী মনোভাবই একসময়কার বিভক্ত আরব বিশ্ব ও ইরানকে একটি অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে নীরব ঐক্যের পথে ঠেলে দিচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা করেন, তবে অতীতের মতো আরব মিত্রদের সমর্থন পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে উঠবে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর


