অনলাইন ডেস্ক

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত দেড় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান এই বিক্ষোভ এখন দেশটির প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। শুরুতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই তা রূপ নেয় সরাসরি সরকার ও সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতৃত্ববিরোধী আন্দোলনে।
নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি, ভয়াবহতার ইঙ্গিত
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৬৫ জন। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শুধুমাত্র রাজধানী তেহরানেই প্রশাসনের দমন-পীড়নে নিহতের সংখ্যা দুই শতাধিক হতে পারে। এই পরিসংখ্যানের পার্থক্য পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং তথ্যপ্রবাহের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের দিকটিই স্পষ্ট করে।
খামেনিবিরোধী স্লোগান, কঠোর দমননীতির ঘোষণা
বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ সরাসরি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে স্লোগানে মুখর। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ শনিবার স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দেন, বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে দেখা হবে। ইরানের আইনে এ অভিযোগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। ইতোমধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা
এই রক্তাক্ত পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে কড়া অবস্থান নেন। বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে—এমন ইঙ্গিত তিনি আগেই দিয়েছিলেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন,
“ইরান স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে। হয়তো এর আগে কখনও এমনভাবে তাকায়নি। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত।”
হামলার প্রস্তুতি? হোয়াইট হাউসে আলোচনা
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউসে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অতর্কিত হামলার প্রয়োজন হলে কোন পথে অভিযান চালানো হবে এবং কোন কোন সেনাঘাঁটিকে নিশানা করা হতে পারে—তা চিহ্নিত করার পর্যায় পর্যন্ত আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আকাশপথে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে, যেখানে ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
এখনই হামলা নয়, দাবি কর্মকর্তাদের
তবে মার্কিন প্রশাসনের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, হামলার ধরন বা সময়সূচি নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অস্ত্রশস্ত্র প্রস্তুত করা হয়নি এবং এগুলোকে সাধারণ সামরিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সম্ভাবনা নেই বলেই দাবি করা হচ্ছে।
উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
একদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট ও রক্তাক্ত দমননীতি, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া ভাষা ও সম্ভাব্য সামরিক প্রস্তুতির আলোচনা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন নির্ভর করছে তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়ার ওপর।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, নিউ ইয়র্ক টাইমস, গ্লোবাল টাইমস


