আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হোয়াইট হাউজে ইরান ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। চলতি সপ্তাহান্তেই—অর্থাৎ শনিবারের মধ্যেই—ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) CBS News-এর এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্র বলেছে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে এবং হামলার বিষয়ে আলোচনা এখনো চলমান।
ঝুঁকি বিবেচনায় ‘পর্যালোচনা’
সূত্রগুলো জানায়, হামলা হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র হতে পারে। রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে হোয়াইট হাউস সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করছে। সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় Pentagon মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু মার্কিন সেনা ও কর্মীকে সাময়িকভাবে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিচ্ছে।
তবে কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আগে পেন্টাগনের ‘রুটিন প্রক্রিয়া’। সেনা সরানো মানেই হামলা নিশ্চিত—এমন নয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেন্টাগনের এক মুখপাত্র বলেছেন, তার কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
কূটনীতিই কি প্রথম পছন্দ?
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পক্ষে অনেক কারণ ও যুক্তি রয়েছে, তবে কূটনীতিই সবসময় প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ।’ সম্ভাব্য হামলা ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে হবে কি না—সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেননি।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio চলতি মাসের শেষদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-র সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে।
জেনেভায় ‘অগ্রগতি’, তবু অনিশ্চয়তা
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় অনুষ্ঠিত পরমাণু আলোচনায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা বাকি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi বলেছেন, সাম্প্রতিক আলোচনা আগের দফার তুলনায় বেশি ‘গঠনমূলক’ ছিল। সম্ভাব্য চুক্তির জন্য দুই পক্ষ ‘নির্দেশনামূলক নীতিমালায়’ একমত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
যুদ্ধবিমান মোতায়েন, শক্তি প্রদর্শন
Axios-এর তথ্য অনুযায়ী, এফ-৩৫ লাইটনিং টু, এফ-২২ র্যাপ্টর ও এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকনসহ গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যে ৫০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিমান ও নৌ সক্ষমতা জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে অঞ্চলটিতে মোতায়েন সব মার্কিন বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থানে থাকবে বলেও সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন এক মার্কিন ও এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা।
সামনের চিত্র কী?
চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা এমন এক সময় হচ্ছে, যখন একদিকে কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতিও দৃশ্যমান। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন নিয়ে ওয়াশিংটনের চাপ বাড়ছে।
ফলে প্রশ্ন রয়ে গেছে—কূটনৈতিক সমঝোতায় কি উত্তেজনা প্রশমিত হবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে সংঘাতের মুখে পড়বে? পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে নজর এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের দিকে।


