অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর Pentagon ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযান চালানোর একাধিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump গ্রহণ করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামরিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত
প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, পরিকল্পনাগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এতে স্পেশাল অপারেশন ফোর্স এবং সীমিত পদাতিক ইউনিটের সম্ভাব্য ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ নয়, বরং “নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান” হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশের উপকূলীয় অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সামরিক মোতায়েন ও প্রস্তুতি
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কয়েক হাজার মার্কিন মেরিন উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপাররা প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানানো হয়।
তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হোয়াইট হাউসের অবস্থান
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রস্তুতি মূলত “সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ নমনীয়তা নিশ্চিত করার অংশ”, তবে এর অর্থ এই নয় যে কোনো সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও উত্তেজনা নিয়ে দাবি
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান উত্তেজনায় সাম্প্রতিক সময়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khameneiকে কেন্দ্র করে কিছু দাবিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলেও এ বিষয়ে কোনো আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর ঘিরে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় আকারের সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, TRT World


