অনলাইন ডেস্ক

ইরান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের আগুনে পুড়ে উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত দেশজুড়ে অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন। তবে স্থানীয় সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম টাইম জানিয়েছে, শুধু রাজধানী তেহরানেই নিহতের সংখ্যা দুই শতাধিক।
বিক্ষোভ এবং প্রশাসনের দমন-পীড়নের প্রভাবে ইরানের বিভিন্ন শহরে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলও বিপর্যস্ত হয়েছে। লুফথানসা, ফ্লাইদুবাই, তার্কিশ এয়ারলাইন্স, এ-জেট, পেগাসাস, কাতার এয়ারওয়েজ এবং অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইন্সসহ কয়েকটি বিমানসংস্থা তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ের তেহরান, শিরাজ, বান্দার আব্বাস ও মাশহাদের উদ্দেশে অন্তত ১৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এমিরেটসও তেহরানগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে। তুরস্কের জাতীয় বিমানসংস্থা তার্কিশ এয়ারলাইন্স এবং এ-জেটও তেহরানসহ অন্যান্য শহরের ফ্লাইট বাতিল করেছে। এছাড়াও দোহা থেকে কাতার এয়ারওয়েজ ও ওমান এয়ারের ফ্লাইটও স্থগিত করা হয়েছে।
বিক্ষোভের মূল প্রেক্ষাপট ছিল ২৮ ডিসেম্বর রিয়েলের অবমূল্যায়নকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গ্রান্ড বাজারে শুরু হওয়া আন্দোলন। ধীরে ধীরে আন্দোলনটি সরকার পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নিয়েছে। সরকার এই বিক্ষোভ দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নয়জন শিশু রয়েছে। শত শত মানুষ আহত হয়েছেন এবং ব্যাপক গ্রেফতার চলছে। তাসনিম বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দাঙ্গার নেতৃত্ব দেওয়া অন্তত ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানকে বিক্ষোভ দমনে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: ফক্স নিউজ, ইরান ইন্টারন্যাশনাল


