আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানিয়েছে ইয়েমেন। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে তারা সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে যেতে প্রস্তুত।
ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা নিশ্চিত করছি যে, সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য আমাদের হাত ট্রিগারেই রয়েছে।”
উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপট
তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা শুরু হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইয়েমেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরান বা “প্রতিরোধ অক্ষ”ভুক্ত কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে হামলা বাড়লে এবং লোহিত সাগরকে সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হলে তারা হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু ইরান নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।
“বৃহত্তর ইসরাইল” পরিকল্পনার অভিযোগ
ইয়েমেনি মুখপাত্র দাবি করেন, চলমান সংঘাতের লক্ষ্য ইসরাইলের কথিত “বৃহত্তর ইসরাইল” পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা, যার মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে দখল বিস্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা আঞ্চলিক জনগণের “বৈধ অধিকার”।
কূটনৈতিক আহ্বান
বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইয়েমেনের মতে, চলমান হামলা “অন্যায়, নিপীড়নমূলক ও অযৌক্তিক”, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা
এর আগে শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে দক্ষিণ ইসরাইলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভূপাতিত করা হয় এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
হামলার পর দক্ষিণ ইসরাইলের বিয়ারশেবা ও আশপাশের এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং ইয়েমেন-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সাম্প্রতিক হুঁশিয়ানি ও হামলার ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।


