অনলাইন ডেস্ক

তেহরান/ওয়াশিংটন: ইরানে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন দেশটির শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। রাজধানী তেহরানের সাদাত আবাদ স্কয়ারসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে এক বার্তায় বলেন, ‘হেল্প ইজ অন দ্য ওয়ে’। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত ‘মিগা’ (মেক ইরান গ্রেট এগেইন) স্লোগান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পথে হাঁটছে কি না—সে প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনীতিতে বিশ্বাসী হলেও প্রয়োজনে প্রাণঘাতী সামরিক শক্তি প্রয়োগে দ্বিধা করবেন না। তার ভাষায়, বিমান হামলা প্রেসিডেন্টের সামনে থাকা একাধিক বিকল্পের মধ্যে একটি।
গত বছরের জুনে ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনায় বোমা হামলা চালানোর পর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে বর্তমান সামরিক বাস্তবতা তখনকার তুলনায় কিছুটা ভিন্ন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বর্তমানে মার্কিন রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদকবিরোধী অভিযানে নিয়োজিত রয়েছে। সেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ফিরে আসতে এ রণতরীর কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে রণতরী অনুপস্থিত থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ১৯টি সামরিক ঘাঁটি সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি থেকে কিছু সেনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশকে সম্ভাব্য বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন অনেকে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ বা স্থল অভিযান এড়িয়ে স্বল্প সময়ের, কিন্তু উচ্চমাত্রার বিধ্বংসী অপারেশন পছন্দ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে আটক করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসার ঘটনার পর, ইরানের ক্ষেত্রেও কোনো ‘সারপ্রাইজ অপারেশন’ হতে পারে কি না—তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
মেলবোর্নের ডিকিন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শাহরাম আকবরজাদেহ আল জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্প ইরানে কোনোভাবেই স্থল সেনা পাঠাতে চান না। আফগানিস্তানের মতো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি তিনি নিতে চান না। তার মতে, বরং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব বা বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-র কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা বা নিখুঁত বিমান হামলার সম্ভাবনাই বেশি।
এরই মধ্যে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অবস্থান সম্পর্কে ওয়াশিংটন অবগত রয়েছে।
তবে জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভালি নাসর সতর্ক করে বলেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলে দেশটি আরও উগ্র ও কঠোর সামরিক শাসনের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে ইরানের চলমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও এক বড় ধরনের সংঘাতের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্র: আল জাজিরা


