অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln-এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, উপকূল থেকে নিক্ষেপ করা মিসাইলের আঘাতে রণতরীটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পরিস্থিতির মুখে সেটি এলাকা ছেড়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
ইরান এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত আগ্রাসনের জবাব হিসেবে উল্লেখ করেছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক শহীদদের বিদায়ী কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে এই প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানো হয়।
এর আগে গত ১৩ মার্চও একই রণতরীতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিক এসব হামলায় রণতরীটি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ফিরে যাচ্ছে।
শুধু সমুদ্রেই নয়, স্থলভাগেও মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাহরাইনের Mina Salman Port এলাকায় অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে দুই দফায় হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, হামলায় উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাঙ্ক এবং ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি United States Navy বা যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ফলে হামলার বাস্তব ক্ষয়ক্ষতি ও পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের দাবি ও পাল্টা অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।


