অনলাইন ডেস্ক

ইরান থেকে ছোড়া ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে উঠেছে দখলদার ইসরায়েল। দেশটির মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে কিছু এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
ইরান দাবি করেছে, শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নতুন করে চালানো এই হামলার পর মধ্য ইসরায়েলজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সতর্কতা জারির পর মধ্য ইসরায়েলের গুশ দান এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে, তবে ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
মধ্যাঞ্চলের হোলন শহরে হামলায় কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু যানবাহনে আগুন ধরে যায়। একই সময়ে কাফর কাসেম শহরের অন্তত চারটি স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, এতে ব্যাপক সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়া অন্তত দু’জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রামাত গান এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে একজন নারী ও একজন পুরুষ নিহত হয়েছেন বলে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো জানিয়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর বেশিরভাগই প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে চ্যানেল ১২। সেখানে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিয়ারশেবাসহ নেগেভ অঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থলে ১০০টির বেশি সামরিক ও নিরাপত্তা লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইসরায়েলের ‘বহুস্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার’ সুযোগে এসব হামলা চালানো সম্ভব হয়েছে।
সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, হামলায় খোররামশাহর-৪, কদর, এমাদ এবং খাইবারশাকানসহ একাধিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।


