অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর ইরান নীতিকে ঘিরে পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে অস্বস্তি ও বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz ইস্যুতে ওয়াশিংটনের আহ্বানে ইউরোপীয় দেশগুলোর শীতল প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান অচলাবস্থা দেখাচ্ছে যে ইরানকে কেন্দ্র করে তৈরি এই সংকটের দ্রুত বা সহজ কোনো সমাধান আপাতত দৃশ্যমান নয়।
ন্যাটো নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান Nick Carter বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের ন্যাটো সংক্রান্ত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি বলেন, North Atlantic Treaty Organization মূলত একটি আত্মরক্ষামূলক জোট হিসেবে গঠিত হয়েছিল।
তার মতে, কোনো সদস্য রাষ্ট্র নিজের উদ্যোগে যুদ্ধ শুরু করে অন্য সদস্যদের সেই সংঘাতে টেনে নেবে—এমন উদ্দেশ্যে এই জোট তৈরি হয়নি।
মিত্রদের মধ্যে আস্থার সংকট
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবি এবং ন্যাটোর ওপর ক্রমাগত চাপ পশ্চিমা জোটে আস্থার সংকট তৈরি করেছে। এই সংকটের প্রতিফলন এখন হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই দেখা যাচ্ছে।
ইউরোপের প্রধান শক্তি Germany ও France এই সংঘাতে সরাসরি জড়াতে অনীহা প্রকাশ করেছে। জার্মান সরকারের বক্তব্য, ইরানের সঙ্গে এই উত্তেজনার দায় ন্যাটোর নয়।
জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী Boris Pistorius মার্কিন সামরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নৌবাহিনী যেখানে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না, সেখানে ইউরোপের সীমিত সামরিক উপস্থিতি কতটা কার্যকর হবে তা স্পষ্ট নয়।
কূটনৈতিক উদ্যোগে যুক্তরাজ্য
এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধান সামনে আসেনি।
হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য সমুদ্র মাইন অপসারণের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ Royal Navy বর্তমানে চালকবিহীন ড্রোন প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে। কারণ তাদের প্রচলিত মাইন-সুইপার জাহাজগুলোর বেশ কয়েকটি বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্দরে রয়েছে।
তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই নতুন প্রযুক্তি কতটা কার্যকর হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মাইন অপসারণে দীর্ঘ সময়ের আশঙ্কা
উপসাগরীয় অঞ্চলের অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, সমুদ্রসীমা মাইনমুক্ত করা অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ। জেনারেল কার্টার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, Gulf War চলাকালে কুয়েত উপকূলে সমুদ্র মাইন অপসারণ করতে পশ্চিমা জোটের প্রায় ৫১ দিন সময় লেগেছিল।
বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের নৌবাহিনীই মাইন অপসারণ সক্ষমতায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেনি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও এই ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারেনি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, মিত্রদের অনীহা এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার সমন্বয়ে ইরানকে কেন্দ্র করে তৈরি এই সংকট দীর্ঘমেয়াদি ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: বিবিসি


