অনলাইন ডেস্ক

প্রচলিত একটি প্রবাদ রয়েছে—‘প্রতিদিন একটি আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যেতে হয় না।’ এই কথাটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে আপেলের অসংখ্য পুষ্টিগুণ। পুষ্টিবিদদের মতে, আপেল যেমন সরাসরি খাওয়া উপকারী, তেমনি এর জুসও শরীরের জন্য সমানভাবে উপকারী। বিশেষ করে গরমের সময় এবং পবিত্র রমযানে ইফতারের টেবিলে আপেলের জুস শরীরে বাড়তি শক্তি জোগাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আপেলের জুসে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক
আপেলের জুস রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। ফলে নিয়মিত আপেলের জুস পান করলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমতে পারে।
পরিপাকক্রিয়া সহজ করে
পুষ্টিবিদদের মতে, আপেলের জুস লিভার ও কিডনিকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য বের করতে সাহায্য করে। ইফতারের সময় একসঙ্গে বেশি খাবার খাওয়ার কারণে অনেকেরই হজমের সমস্যা দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে আপেলের জুস পরিপাক প্রক্রিয়াকে সহজ করতে সহায়তা করতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা
যাদের শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমছে বা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য আপেলের জুস উপকারী হতে পারে। এতে ফ্যাটের পরিমাণ খুবই কম থাকায় এটি স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
শরীরে শক্তি বাড়ায়
আপেলের জুসে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ই ও কে সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। এসব উপাদান শরীরে শক্তি যোগায় এবং দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর সৃষ্ট দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করে।
স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে পারে
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আপেলের জুস পান করলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত হতে পারে।
দৃষ্টিশক্তির জন্যও উপকারী
আপেলের জুসে থাকা ভিটামিন এ চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে এবং কিছু চক্ষু সমস্যার ঝুঁকি কমাতে পারে।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, শুধু রমযানেই নয়, সারা বছর নিয়মিত আপেল বা আপেলের জুস খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর সুস্থ রাখা সহজ হয়। বিশেষ করে ইফতার বা সেহরিতে আপেল বা এর জুস শরীরকে সতেজ রাখতে এবং সারাদিন কর্মক্ষম থাকতে সহায়তা করতে পারে।


