
দ্য গার্ডিয়ান : প্রায় চার বছর ধরে চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা গোপনে একটি খসড়া সমঝোতা পরিকল্পনার খোঁজ করছেন—এমন তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে কিয়েভকে মস্কোর কাছে কিছু ভূখণ্ড ছাড়তে হতে পারে এবং ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর আকারও কমাতে হতে পারে।
এক্সিওস জানায়, মার্কিন ও রুশ নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে বেশ কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা এবং ইউক্রেন–রাশিয়া সংঘাতের ভবিষ্যৎ সমাধানের জন্য একটি খসড়া কাঠামো তৈরি করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা কিছু অঞ্চলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার চাপের মুখে পড়তে পারে ইউক্রেন। একই সঙ্গে, যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী পুনর্গঠন ও বাহিনীর আকার সীমিত করার বিষয়টিও আলোচনায় ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে এমন কোনো পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত নয় বলে জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শান্তি আলোচনার কোনো অগ্রগতি বা নতুন খসড়া পরিকল্পনা তাদের কাছে পৌঁছেনি। তারা আবারও আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, যুদ্ধ শেষ করতে হলে কিয়েভকে ‘মাঠের বাস্তবতা’ স্বীকার করতে হবে।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকেও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে এর আগে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বহুবার জানিয়েছেন, কোনো ভূখণ্ড ছাড় দিয়ে যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলো বিকল্প সমাধানের পথ খুঁজছে। তবে ভূখণ্ড ছাড় বা বাহিনী সীমিত করার মতো শর্ত ইউক্রেন রাজনৈতিকভাবে গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়েই বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।


