অনলাইন ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেনিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এক অভিযানে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN। তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে চালানো এ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump গত শনিবার ভোরে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সরাসরি ‘হত্যা’ শব্দটি ব্যবহার না করলেও তিনি দাবি করেন, ইরানের পক্ষ থেকে আসন্ন হুমকি প্রতিহত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এক টেলিফোন আলাপে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাকে হত্যার ইরানি ষড়যন্ত্রের গোয়েন্দা তথ্য ছিল—এ কারণেই এটি ছিল ‘আত্মরক্ষামূলক’ সিদ্ধান্ত।
ঐতিহাসিক নজির ভাঙার অভিযোগ
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাকে প্রকাশ্য সামরিক অভিযানে লক্ষ্যবস্তু করল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সরাসরি হত্যার বিষয়ে ওয়াশিংটনের নীতিগত সংযম ছিল। এমনকি Ronald Reagan-এর আমলে জারি করা নির্বাহী আদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে মার্কিন সম্পৃক্ততা আইনত নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে নাইন-ইলেভেন-পরবর্তী সন্ত্রাসবিরোধী আইনি কাঠামো এবং সাম্প্রতিক বিচারিক ব্যাখ্যার কারণে এই সীমাবদ্ধতাগুলো কার্যত শিথিল হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা।
অভিযানের পেছনে গোয়েন্দা তৎপরতা
সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা Central Intelligence Agency খামেনেনির গতিবিধির ওপর নজরদারি চালিয়ে আসছিল। তেহরানের একটি সরকারি কম্পাউন্ডে শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের বৈঠকের সময় উন্নত প্রযুক্তির প্রজেক্টাইল ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। এতে ইরানের প্রেসিডেন্সি ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে।
ইসরায়েলের সামরিক প্রযুক্তি ও মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অতীতের প্রেক্ষাপট ও তুলনা
এর আগে কিউবার নেতা Fidel Castro-কে হত্যার একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সত্তরের দশকে মার্কিন কংগ্রেসের চার্চ কমিটির তদন্তে এমন গোপন অভিযানের নেতিবাচক দিকগুলো সামনে আসে। এছাড়া ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট Ngo Dinh Diem-এর হত্যাকাণ্ড পরবর্তী অস্থিতিশীলতার উদাহরণ হিসেবেও আলোচিত হয়।
২০২০ সালে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানি-কে হত্যার মাধ্যমে যে নীতি-পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, খামেনেনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তা আরও বিস্তৃত রূপ নিল বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া ও আশঙ্কা
তেহরানের রাস্তায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন, আবার অনেকেই আশঙ্কা করছেন আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।
খামেনেনি-পরবর্তী ইরানে ক্ষমতার ভারসাম্য কীভাবে পুনর্গঠিত হবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব কী হতে পারে—তা এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিক সামরিক সাফল্য দীর্ঘমেয়াদে কূটনৈতিক ও মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।
সূত্র: সিএনএন


