অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তীব্র মন্তব্য করেন যে:
-
তিনি বলেছেন যে চ্যাটজিপিটি এবং অন্যান্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্ল্যাটফর্ম মূলত যুক্তরাষ্ট্রে (US) অবস্থিত ডেটা সেন্টার ও সার্ভার থেকে চলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ ও সম্পদ ব্যবহার করে।
-
তাঁর মতে, এই পরিষেবাগুলো ভারত, চিন ও অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, কিন্তু তার জন্য যেসব খরচ (বিশেষত বিদ্যুতের খরচ) হচ্ছে — তা আমেরিকার নাগরিকদের উপর পড়ছে।
-
তিনি আসলে প্রশ্ন তুলেছেন: “ভারতে AI ব্যবহারের জন্য কেন আমেরিকানরা অর্থ দিচ্ছে?” এবং এমন ব্যবহারের বিরুদ্ধে তিনি প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই মন্তব্য তিনি স্টিভ ব্যাননের Real America Voice‑তে একটি সাক্ষাৎকারে করেছেন।
নাভারোর যুক্তি ও অভিযোগ
-
AI সার্ভিসগুলো US‑তে চলছে
— তিনি বলেছেন ChatGPT‑এর মতো মডেলগুলো যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত ডেটা সেন্টার থেকে চলছে, যা আমেরিকার বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। -
বিদেশে সেবা দেয়ার জন্য আমেরিকার লোকেরা পয়সা দিচ্ছে
— তিনি এই পরিস্থিতিকে দেশীয় লোকের বিরুদ্ধে অবিচার হিসেবে দেখছেন এবং দাবি করছেন যে আমেরিকানরা যা খরচ করছে, তার পরিমাণ বিদেশের বড় মার্কেটের জন্য যাচ্ছে। -
বিদ্যুৎ খরচ ও AI‑ডেটা সেন্টার
— নাভারো বলছেন দ্রুত বাড়তে থাকা AI‑ডেটা সেন্টারগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ খরচ বাড়াচ্ছে, এবং এটা আমেরিকার গ্রাহকদের জন্য বিল বাড়াচ্ছে।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব
নাভারোর এই মন্তব্যগুলো শুধু প্রযুক্তি‑সম্পর্কিত নয়, বরং এর ঘিরে রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক এবং বাণিজ্য নীতি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্কে কয়েকটি ইস্যু বিদ্যমান, যেমন:
-
বাণিজ্য চুক্তিতে দ্বন্দ্ব
-
আমেরিকার শুল্ক নীতি ও ভারত‑চীন‑রাশিয়া‑সম্পর্ক
এগুলোর প্রেক্ষাপটে তাঁর মন্তব্য আরও বিতর্ক তৈরি করেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁর মন্তব্যকে “অগ্রহণযোগ্য ও ভুল বোঝাপড়া” হিসাবে নাকচ করেছে এবং বলেছে এই জাতীয় বক্তব্য আমেরিকা‑ভারতের সম্পর্ককে ক্ষুণ্ন করতে পারে। (সংবাদ সূত্রগুলো এই দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছে)
বাস্তবে কী সত্য?
AI পরিষেবা যেমন ChatGPT‑এর ভিত্তি এবং ব্যবহার:
-
ChatGPT‑এর মতো এআই মডেলগুলো অনেক দেশেই ব্যবহৃত হয়। এটি একটি গ্লোবাল পরিষেবা এবং এটি ব্যবহারকারীর অবস্থান নির্বিশেষে কাজ করে।
-
সার্ভারগুলো হয়তো কোনো একটি দেশে থাকতে পারে, কিন্তু পরিষেবাটি আইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে।
-
ব্যবহারকারীরা কোন দেশে থাকুক, সাধারণত সেই দেশের সরকারের নিয়ম, ট্যাক্স ও নীতি অনুযায়ী সার্ভিস ব্যবহার ও ভ্যাট/চার্জ দিতে পারে। এইটা প্রযুক্তিগত বাস্তবতা।
-
“আমেরিকার বিদ্যুৎ খরচ করে ভারতে AI পরিষেবা দেওয়া” এই মন্তব্যটি বাস্তব প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা নয়; সার্ভার ইন্টারনেট‑ভিত্তিক এবং বিদ্যুৎ খরচকে সরাসরি দেশের ব্যবহারকারীদের পেমেন্টের সাথে মিলিয়ে দেখা কঠিন।
অর্থাৎ, তিনি রাজনৈতিক/অর্থনৈতিক বক্তব্য হিসেবে এই দাবি করেছেন, প্রযুক্তিগত বা ব্যবসায়িক বাস্তবতার সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা হিসেবে বলা কঠিন।
আমি চাইলে এই প্রযুক্তিগত দিক আরও বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করে দিতে পারি।


