শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

আমি কে? কোথা থেকে আসলাম? আমার নিয়তি কি?

পাঠক প্রিয়

কাতারে ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে বলে খবর...

যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা দিচ্ছে চীন—মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

অনলাইন ডেস্ক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই তেহরানকে নতুন করে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন—এমন তথ্য...

সংকট আতঙ্কে জ্বালানি মজুত: বাসা হয়ে উঠছে ‘ঝুঁকির পেট্রোলপাম্প’

বিশেষ প্রতিবেদন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশেও। তবে বাস্তবে জ্বালানি সরবরাহে...

রাজধানীতে পাঁচ বছরে ৩ লাখ বৃক্ষরোপণ করবে ডিএসসিসি: আব্দুস সালাম

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা: রাজধানীকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য করে তুলতে আগামী পাঁচ বছরে তিন লাখ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ...

আমানতকারীদের সুরক্ষায় ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’ পাস

অনলাইন ডেস্ক আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং দেশের আর্থিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ‘আমানত সুরক্ষা বিল,...
আমি কে? আমি কোথা থেকে আসলাম? আর আমার নিয়তি বা কি? এই প্রশ্ন এমন নয় যে, কেউ এর উত্তর তোমাকে দিতে পারবে। এমনও নয় যে উত্তর দেওয়া হয় নাই, উত্তর দেওয়া হয়েছে। এবং উত্তর দেওয়া যেতে পারে,কিন্তু সেই উত্তর ব্যর্থ হবে। এই প্রশ্ন তো একা নিজেকে জিজ্ঞাসা করার প্রশ্ন! এতই মূল্যবান প্রশ্ন যে, তোমাকে নিজ থেকে খুঁজতে হবে এবং তখনি সেই উত্তরের উপর ভরসা করবে!
#কোরআন #গীতা #বেদ #বাইবেল #ত্রিপিটক” সব কিতাবে এর উত্তর আছে, উত্তর আর উত্তরে ভরা ইতিহাস! কিন্তু সেই উত্তর অন্য জনের। তুমি জিজ্ঞাসা করেছো” আমি কে? কাকে জিজ্ঞাসা করছো? এই প্রশ্ন তো শুধু নিজেকেই জিজ্ঞাসা করা যায়, এই প্রশ্ন তো একটা মন্ত্র, এই প্রশ্নকে নিয়ে নিজের ভিতর ডুব দেওয়া জরুরী। যতক্ষণ না তুমি তোমার হৃদয়কে শান্ত করতে পারবে, ততক্ষণ তুমি তোমার ছবি দেখতে পারবে না!
হাজার উত্তর দেওয়া যেতে পারে, ধার করা হবে। কেউ তোমাকে বললোঃ তুমি আত্না, কি হবে এই বলাতে? শুধুই শুনবে, বুঝবে কি? কেউ তোমাকে বললোঃ তুমি পরমাত্মা, সেটাও বা কি হবে? বলা তো হয়েছে বহু বার, তুমিও শুনেছ বহু বার, কিন্তু তোমার জীবন যেখানে ছিলো সেখানেই আছে! এটা কোন সিদ্ধান্তের প্রশ্ন নয়, এই প্রশ্ন অস্তিত্বের, এই প্রশ্নটা খুবই ছোট কিন্তু এটা তোমার জীবনের মৌলিক সমস্যা! উত্তরের প্রয়োজন নেই, সমাধানের প্রয়োজন, আর সমাধান মিলবে সমাধির ভিতর, এর জন্যই তো সমাধিকে সমাধান বলা হয়েছে, কারণ সেখানেই পরম সমাধান রয়েছে।
আমি তোমাকে বলতে চাই এই প্রশ্নকে ধ্যানে রুপান্তর করো, আমাকে প্রশ্ন করো না, নিজেকে প্রশ্ন করো। প্রতিদিন প্রশ্ন করো, যতটুকু সময় পাও, যতটুকু শক্তি যোগাতে পার, এই প্রশ্নতে ব্যয় করো। রাম-রাম বা সুবহানাল্লাহ-সুবহানাল্লাহ বলার থেকে এটা বেশি সার্থক যে, তুমি তোমার ভিতরে এই প্রশ্নকে নিয়ে ডুবে যাও, আমি কে? আর একটা বিষয় খেয়াল রেখো তাড়াতাড়ি কোন উত্তরে রাজি হবে না।
কারণ মন অনেক চালাক, মন বলবে এটা কোন কথা হলো- পরিষ্কার ভাবে কৃষ্ণ বলেই দিয়েছেন, তুমি কে? পরিষ্কার ভাবে কোরআনে তো বলাই আছে যে, তুমি কে? আর এর থেকে স্পষ্ঠ কথা কি হতে পারে। #আমি_ব্রক্ষ্মা ঘোষণা করে গেছেন মুনি-ঋষিরা,যারা জেনেছেন। তুমি শুধু-শুধু আজাইরা পেচাল পারতেছো, তুমিও বলো #আমি_ব্রক্ষ্মা, আর এটা বেশির ভাগ লোক করতেছে, শুধু বলছে কিন্তু যে উত্তর তোমার নয়, সেই উত্তর যতই দামি হোক না কেন, তাতে প্রাণ নেই!
মানসুর আল–হাল্লাজ(রহঃ) বলেছেনঃ “আনাল হাক্ক” (“আমিই পরম সত্য”) কিন্তু এই উত্তর তোমার কি কাজে আসবে? হ্যাঁ মানসুর আল–হাল্লাজ(রহঃ) এর কাজে আসবে, মানসুর আল–হাল্লাজ(রহঃ) নিজে জেনে এই কথা বলেছে। আর তুমি তোতা পাখির মত মুখস্থ করে বলছো। একটা বিষয় মনে রেখো জীবনের যে মৌলিক সমস্যা আছে তার সমাধান “বাসি” হয় না। আমাকে জিজ্ঞাসা করোনা, জিজ্ঞাসা করো নিজেকে!
তুমি প্রশ্নঃ করেছো, আমি কোথা থেকে আসলাম? কোথা থেকেও আসোনি আর না কোথাও যাবে। আগের থেকেই তুমি এখানে ছিলে, আসা আর যাওয়ার কথা হলো, স্বপ্নের মত, এই অস্তিত্বের মধ্যে না কিছু আসে আর না কিছু যায়। বিজ্ঞানীরা বলেনঃ এক ফোঁটা পানিকে ধ্বংস করা যাবে না- থাকবেই, হয় তো বা পানির মত থাকবে না, জলীয় বাষ্প হয়ে যাবে, বা জলীয় বাষ্পের মত নয়, বরফের মত থাকবে, যদি বরফের মত থাকতে না দাও তাহলে অক্সিজেন- হাইড্রোজেনের মত হয়ে থাকবে কিন্তু থাকবেই। অস্তিত্বকে অনস্তিত্ব করতে পারবে না, যা আছে তা থাকবে, ধ্বংস করার কোন উপায় নেই। আর যা নেই তা নেই, তাকে উৎপন্ন করাও সম্ভব নয়! অস্তিত্ব বেশিও হতে পারবে না আর না কম হতে পারবে,যা আছে তাই।
কিন্তু পরিবর্তন হয়, এখান থেকে ওখানে,তাই লালন সাঁই বলেছেনঃ এ দেশেতে এই সুখ হল, আবার কোথা যাই না জানি (রুপান্তর)। সব কিছুই পুরাতন, একটা কথা স্বরণে রেখো, না তুমি কোথা থেকে এসেছো, না কোথাও যাবে। সূফী ওমর খৈয়াম(রহঃ) এর শেষ সময়ে কেউ জিজ্ঞাসা করলোঃ আপনি আমাদের এতিম করে যাচ্ছেন। ওমর খৈয়াম(রহঃ) চোখ খুলে বললোঃ তোমরা কি পাগল হয়েছো? আমি যাবো তো কোথায় যাবো? যাওয়ার জায়গা কোথায়? এখানে আছি আর এখানেই থাকবো! শরীরে নয় তো, শরীরের বাহিরে থাকবো, ঘরে নয় তো, ঘরের বাহিরে থাকবো, এই দেশ নয় তো, অন্য দেশে থাকবো, এখান নয় তো ওখানে, কিন্তু যাবো কোথায়? যাওয়ার কোন জায়গা নেই, না কোথাও থেকে এসেছি না কোথাও যাবো!
আসা আর যাওয়া- জানাকে জ্ঞানীরা মুক্তি বলেছেন, আর যার এই বোধ হয়েছে, না কোথাও থেকে আসার দরকার আছে না কোথাও যাওয়ার দরকার আছে। কিন্তু আমরা স্বপ্নে অনেক আসা-যাওয়া করতেছি। রাতে তুমি ঘুমিয়ে কত জায়গায় যাও-আসো, আর সকালে উঠে তুমি যদি কাউকে জিজ্ঞাসা করো যে,আমি রাতে সৌদি আরব চলে গিয়ে ছিলাম, কিভাবে গেলাম? কোন যানবাহন ছাড়া? যাকে তুমি জিজ্ঞাসা করছো সে হাসবে,বলবে পাগল হয়ে গেলে নাকি? তুমি তো কোথাও যাওনি কোথাও আসোনি স্বপ্ন দেখে ছিলে। কেউ স্বপ্ন দেখছে শরীর হওয়ার, কেউ স্বপ্ন দেখছে ধনী হওয়ার, কেউ স্বপ্ন দেখছে ত্যাগী হওয়ার, কেউ স্বপ্ন দেখছে পাপী আত্না হওয়ার, কেউ স্বপ্ন দেখছে পূর্ণ আত্মা হওয়ার, শুধু স্বপ্ন আর স্বপ্ন। যে দিন জাগবে ধ্যানের মাধ্যমে সেই দিন বুঝবে, না কোথাও থেকে এসেছো, না কোথাও যাবে! সব আসা আর যাওয়া মনের কল্পনা।
আরও তুমি জিজ্ঞাসা করেছোঃ তোমার নিয়তি কি? অস্তিত্বের কোন নিয়তি নেই, এর জন্যই তো আমরা, এই দেশে সৃষ্টিকে লীলা বলছি। লীলার অর্থ হলো যার কোন নিয়তি নেই, যেমন কেউ খেলা খেলে, খেলার কি কোন নিয়তি হতে পারে? কেউ তাস খেলছে-কেউ ক্রিকেট খেলছে-কেউ দাবা খেলছে এর কি কোন নিয়তি থাকতে পারে? এই খেলা থেকে কি কেউ কিছু পেতে পারে?
শুধু মনোরঞ্জন-খেলা, লোকজন বালু দিয়ে নদীর কাছে ঘর বানায়-খেলে, এক ঢেউ এসে সব ভেঙ্গে দেয়। এই পৃথিবীতে এই দেশে শুধু লীলা শব্দের ব্যবহার হয়েছে, তাই নজরুল বলেছেনঃ খেলিছ এ বিশ্ব লয়ে-বিরাট শিশু আনমনে। প্রলয় সৃষ্টি তব পুতুল খেলা-নিরজনে প্রভু নিরজনে। শূণ্যে মহা আকাশে-তুমি মগ্ন লীলা বিলাসে-ভাঙ্গিছ গড়িছ নীতি ক্ষণে ক্ষণে।
দুনিয়াতে কোন ধর্ম এতটুকু সাহস যোগাতে পারেনি! কেউ বলতে পারেনি যে, অস্তিত্ব হলো লীলা-খেলা, সবাই বলেছে অস্তিত্ব সৃষ্টি আর পরমাত্মা স্রষ্টা, যখন তুমি অস্তিত্বকে সৃষ্টি বলবে তখন খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়, নিশ্চিই কোন না কোন প্রয়োজনের কারণে সৃষ্টি করা হয়েছে!
মনে হচ্ছে পরমাত্মার কোন আশা আকাংখা আছে? আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করি? পরমাত্মার কি কোন বাসনা থাকতে পারে? যে অস্তিত্বকে প্রয়োজনে সৃষ্টি করেছেন? তাঁর কি কিছু কম আছে? প্রয়োজন তো সেখানে থাকে যেখানে কিছু কমতি আছে! পরমাত্মা স্বয়ংসম্পূর্ণ, এই অর্থে এটা সৃষ্টি নয়, যে তিঁনি বানিয়ে কিছু পেতে চাচ্ছেন। না কোন প্রয়োজন আছে, না কোন লক্ষ্য আছে, লক্ষ্যের ভাষা হলো অহংকারের ভাষা। কোন লক্ষ্য-কোন প্রয়োজন ছাড়া, তোমার মনে হবে, তাহলে এত আয়োজন কিসের জন্য? ঠিক তখনি তুমি জিজ্ঞাসা করবে, তাহলে আমি এমন করবো-তেমন করবো কেন?
এই সমস্ত অস্তিত্ব এক শক্তির, লীলা-খেলা হচ্ছে। জিজ্ঞাসা করো না নিয়তি কি? নিয়তি হয় মেশিনের , যদি তুমি মেশিন বানাও তার নিয়তি থাকতে পারে, কোন না কোন প্রয়োজনের জন্য বানানো হয়, তার থেকে কিছু সৃষ্টি করতে হবে- উৎপাদন করতে হবে।
মানুষের কোন প্রয়োজন নেই কোন নিয়তি নেই। মানুষ তো পরমাত্মার (“আনন্দ”), যেখানে যেখানে জীবন আছে, সেখানে সেখানে কোন নিয়তি নেই। নিয়তির থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়াই, মুক্তি বা সমাধি ! এই কথা জিজ্ঞাসা করতে পারো আমি কে? অবশ্যই নিজেকে জিজ্ঞাসা করো, আর এই সমস্যা সৃষ্টি করো না যে, আমি এখানে কেন এসেছি? কারণ এর উত্তর তুমি কখনোই পাবে না। এর উত্তর অবশ্যই পাবে যে, আমিকে। সেই উত্তরই পাবে যা সব সময় পাওয়া গেছে, কিন্তু সেই উত্তর তোমার ভিতর থেকে আসতে হবে। সমস্ত সম্পদ তোমার ভিতরে, নিজের ভিক্ষার থলি কারো কাছে পেতনা।
হে নদী কোথায় পালিয়ে যাচ্ছো? সাগর-ই তোমার সত্য নয়, তোমার সত্য তোমার ভিতরে। কোথাও যেতে হবে না, তোমার সত্য তোমার ভিতরে। শুধু সাগরেই সত্য লুকিয়ে নয়, প্রতিটি পানির ফোঁটায় সত্য লুকিয়ে রয়েছে। এক ফোঁটা পানির রহস্যকে যদি জানতে পারো, তাহলে সব সাগরের রহস্য উন্মোচন হয়ে যাবে। একটি ক্ষুদ্র জিনিসে পরমাত্মা ততটুকু বিরাজমান ঠিক যতটুকু সমগ্রতার ভিতর! কারণ পূর্ণের কখনো খন্ড হয় না, পূর্ণ অখন্ড, তোমার ভিতর পরমাত্মা ততটুকুই, যতটুকু সম্পূর্ণ বিরাট অস্তিত্বের মধ্যে। কখনো এমন চিন্তা করো না যে, পূর্ণের কিছু অংশ তোমার ভিতর, আর কিছু অংশ অন্যের ভিতর, এখন তুমি মনে করবে সব অংশের জোড় পরমাত্মা। “না” পরমাত্মা জোড় নয়, এই ছোট অংক সেখানে কাজ করবে না।
প্রশ্ন তোমার খুব সুন্দর হয়েছে, যদি পারো এটাকে ধ্যানে রুপান্তর কর। শুরু শুরুতে জিজ্ঞাসা করবে আমিকে? শব্দ দিয়ে, শব্দ দিয়েই শুরু করতে হবে কারণ শব্দের জঙ্গলে আমরা হারিয়ে গিয়েছি। যেখান থেকে আমরা হারিয়ে গেয়েছি সেখান থেকেই প্রথম যাত্রা শুরু করতে হবে। তারপর ধীরে ধীরে যখন প্রশ্ন পরিষ্কার হবে, তখন শব্দ ছাড়তে থাকবে, শুধু প্রশ্ন চিহ্ন থাকবে ভিতরে,শান্ত ভাবে বসে থাকবে! আমি কে? কিন্তু কোন শব্দ হবে না। আর ধীরে ধীরে প্রশ্ন চিহ্ন ও হারিয়ে যাবে, শুধু ভাবনা থেকে যাবে।
এই বিষয় আমি তোমাকে একটা ঘটনা বলি, শেখ ফরিদ(রহঃ) একদিন গোসল করার জন্য নদীর দিকে যাচ্ছিলেন। এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করলো বাবা ফরিদ(রহঃ) স্রষ্টাকে আমিও পেতে চাই, কোন রাস্তা আছে? শেখ ফরিদ(রহঃ) সেই ব্যক্তিকে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত দেখলেন, তারপর বললেনঃ আসলেই তুমি স্রষ্টাকে পেতে বা জানতে চাও? সেই ব্যক্তি একটু ভয় পেয়ে গেলো, সে তো শুধু প্রশ্নই করেছিল, যে বাবা ফরিদ(রহঃ) রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন একটা প্রশ্ন করেই দেখি।
যখন-ই শেখ ফরিদ(রহঃ) বললোঃ আসলেই তুমি স্রষ্টাকে পেতে বা জানতে চাও? এই উত্তরে সে আটকিয়ে গেল. ভয়ে-ভয়ে সে বললো হ্যাঁ হ্যাঁ অবশ্যই স্রষ্টাকে জানতে চাই। শেখ ফরিদ(রহঃ) বললোঃ তাহলে আসো আমার সাথে আর এমন প্রশ্ন গোসল করার পরেই জিজ্ঞাসা করতে হয়! প্রথমে নদীতে গোসল করবো তারপর উত্তর দিবো। আর যদি সুযোগ পাই গোসল করার সময়ই উত্তর দিয়ে দিবো। সেই ব্যক্তি এবারও ভয় পেয়ে গেল, (যদি সুযোগ পাই গোসল করার সময়ই উত্তর দিয়ে দিবো) এর অর্থ কি? তারপর একটু চিন্তা করলো, ফকির মানুষ উল্টা পাল্টা কতই না কথা বলে, তাদের নিজস্ব কোন উদ্দশ্যে হতে পারে।
কি আর ক্ষতি করবে আমার, কঠিন কোন কাজের কথা তো বলছে না,শুধু তো গোসল করতেই বলছে, এমনেও আমি বাসায় গিয়ে গোসল করতাম। সেই ব্যক্তি শেখ ফরিদের(রহঃ) সাথে নদীর দিকে অগ্রসর হলেন। কাপড় খুলে দুই-জনই গোসল করতে নদীতে নামলেন। যখন সেই ব্যক্তি পানিতে ডুব দিলো, শেখ ফরিদ(রহঃ) তার উপর উঠে বসলো, এবং পানি থেকে উপরে উঠতে দিচ্ছিলেন না, তাকে নাকানি-চুবানি, দিচ্ছে । সেই ব্যক্তি ছটফট করতে লাগলো, কিন্তু শেখ ফরিদ(রহঃ) তাকে ছাড়ছেন না,। কিন্তু সেই ব্যক্তি সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছে পানির থেকে বের হওয়ার জন্য, হঠাৎ করে শেখ ফরিদ(রহঃ) কে ফেলে দিলো এবং পানির থেকে উপরে আসলেন।
শেখ ফরিদ(রহঃ) বললোঃ কিছু বুঝতে পারছো? সেই ব্যক্তি বললোঃ কি বুঝবো? জীবনই তো নিয়ে-নিয়ে ছিলেন, আর একটু যদি পানিতে থাকতাম মরেই যেতাম, এভাবে কি আল্লাহ্কে কেউ জানতে পারে? তুমি কি মানুষ না কি হত্যাকারী? আমি তো শুনে ছিলাম তুমি আল্লাহওলা বা বুজুর্গ , এখন তো মনে হচ্ছে তুমি পাগল। আর একটু হলে আমার গলা-ই ভেঙ্গে যেতো। শেখ ফরিদ(রহঃ) বললোঃ তোমার কথা আমি পরে শুনবো, আগে তোমার প্রশ্নের উত্তর নিয়ে নাও, পরে ভুলে যাবা কারণ মানুষের স্মরণ শক্তি অনেক দুর্বল, আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করছি, আমি যখন তোমাকে পানিতে চুবানি দিয়ে ছিলাম, তোমার মনে কতটুকু স্মরণ ছিল?
সেই ব্যক্তি বললোঃ কতটুকু স্মরণ? একটাই স্মরণ ছিলো কিভাবে পানির থেকে বাহিরে আসবো। শেখ ফরিদ বললোঃ এই স্মরণ কতটুকু সময় পর্যন্ত ছিলো? সেই ব্যক্তি বললোঃ এই স্মরণও বেশি সময় ছিলো না, তুমি যখন আমাকে পানিতে চুবাইতে ছিলে সেই খেয়াল হারিয়ে গেল, শুধু ভাবনা ছিলো, কিভাবে! এখন তো শব্দ দিয়ে বলতে হচ্ছে, সেই সময় কোন শব্দ ছিলো না, শুধু কিভাবে একটুকু শ্বাস গ্রহণ করবো, তারপর এটাও স্মরণে ছিলো না, কোন ভাবনাও বেঁচে ছিলো না, তারপর কি হয়েছিল সেটা আমি বলতে পারবো না, এমন শক্তি আমার ভিতর প্রবেশ করলো, তা না হলে তোমার মত মওলাকে আমি তুলে ফেলবো, এটা আমার শক্তির বাহিরে কিন্তু কোন শক্তি তো অবশ্যই কাজ করেছে যা আমার নয়, পরমাত্মার দয়া মনে করো।
শেখ ফরিদ(রহঃ) বললোঃ ঠিক এমনি ভাবে যেদিন তুমি পরমাত্মাকে চাইবে! প্রথমে প্রশ্ন-বিচার,তারপর ভাবনা, শেষে ভাবনাও হারিয়ে যাবে, শুধু শক্তি থাকবে সেই দিন-ই পরমাত্মাকে পেয়ে যাবে, এটা আমার উত্তর শেখ ফরিদ(রহঃ) বললো। এখন তুমি যাও প্রশ্ন করে কোন লাভ নেই, তৃষ্ণার প্রয়োজন।
এখন আমি তোমাকে একটা ছোট প্রশ্ন করি ২+২ কত হয়? তুমি বলবে ৪, কারণ তুমি আগের থেকেই শিখে রেখেছো ২+২ = ৪ হয়, প্রশ্ন করলাম আর তুমি উত্তর দিয়ে দিলে। আমি যদি তোমাকে জিজ্ঞাসা করি তোমার ভিতরে কে? তুমি বলবে আত্না, এই উত্তরও ২+২ = ৪ এর মত হলো, কোন ভেদ নেই। মানুষ ততদিন ধার্মীক হতে পারবে না এবং সত্যকে জানতে পারবে না, যতদিন না নিজেকে জিজ্ঞাসা করছে, আমি কে?
একটা বিষয় খেয়াল রেখো, বাহিরের থেকে কোন উত্তর গ্রহণ করবে না! বাহিরের থেকে অনেক উত্তর আসবে, বলবেঃ তুমিই রাম-তুমিই আত্না-তুমি কিছুই নও শুধু পদার্থ-আর যদি নাস্তিকের ঘরে জম্ম হয় তাহলে বলবেঃ তুমি শুধু শরীর, আর যদি আস্তিকের ঘরে জম্ম হয় তাহলে বলবেঃ তুমিই পরমাত্মা। এই ধার করা শিক্ষা ছাড়ো, কোন গ্রন্থ থেকে আসা উত্তরকে গ্রহণ করবে না। যদি তুমি কোন উত্তর কে স্বীকৃতি না দাও তাহলে কি হবে? ভিতরে শূন্যতার জম্ম হবে, আর সেই শূন্য থেকেই সেই জিনিসের আসা শুরু হবে, যা তোমার নিজের।
জিজ্ঞাসা করো নিজেকে, আমি কে? আর দয়া করে “ধার” করা কোন উত্তর গ্রহণ করবে না। জিজ্ঞাসা করো নিজেকে, আমি কে? যত গভীরে নেয়া যায় এই প্রশ্নকে, শুধু প্রশ্ন থাকবে উত্তরের প্রয়োজন নেই। সেই উত্তর হোক না যত বড় মহাপুরুষের, হোক না সেটা হিন্দুর-মুসলমানের-বৌদ্ধের-খৃষ্টনের কারো উত্তর গ্রহণ করবে না। পরমাত্মা এবং সত্য খোঁজার মধ্যে যে আসবে তাকেই বিদায় করে দিবে।
আমি জানতে চাই! এর জন্য কারো উত্তরে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
আমি দেখতে চাই! এর জন্য অন্য জনের চোখ দিয়ে দেখা সম্ভাব নয়।
তোমাকে যে জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া হয়েছে তোতা পাখির মত, সেই জ্ঞানই বাধা পরমাত্মা এবং সত্যের মধ্যে। যে ব্যক্তি নিজের অজ্ঞানকে স্বীকার করবে না, সেই ব্যক্তি কখনো আগে যেতে পারবে না। প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর লুকিয়ে আছে, বাহিরের কোন উত্তরকে স্বীকার করো না! প্রথমে জিজ্ঞসা করবে শব্দের মাধ্যমে, আমি কে? তারপর শুধু প্রশ্ন থাকবে, তারপর প্রশ্নও চলে যাবে-শুধু শূন্য অবস্থা থাকবে।
এখন তুমি এটাকে ধ্যান বলো বা প্রার্থনা বলো, যা তোমার মনে চায়! সেখান থেকেই উত্তর আসবে, তখন তুমি আশ্চর্য হবে,সেই খালি জায়গায় সূর্য উদয় শুরু হবে এবং নিজেকে জানার প্রথম আলো তুমি দেখতে পাবে। তখন তুমি বুঝতে পারবে। কস্তুরী কোথায় আছে, কস্তুরী তোমার ভিতর আছে, আর তুমি জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরছো, কোথায় পাবো কিভাবে পাবো! যা কিছু পাওয়া যায় সব কিছু তোমার ভিতর ।
আমার প্রিয় আত্না আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে” “আমার কথাগুলো এত প্রেম ও শান্তির সঙ্গে পড়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ প্রকাশ করছি, কেন না এই ধরনের কথাবার্তা প্রেম ও শান্তির সঙ্গে পড়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এবং শেষে সকলের ভেতরে পরমাত্মাকে ভক্তি ও শ্রদ্ধা করছি, আমার ভক্তি ও শ্রদ্ধা গ্রহণ করুন দয়া করে!!
“Translation & posted” By “Monju Miah” “Respect” “By” “Osho & Sadhguru”

সর্বশেষ সংবাদ

যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা দিচ্ছে চীন—মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

অনলাইন ডেস্ক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই তেহরানকে নতুন করে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন—এমন তথ্য...

হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ১৬৯

অনলাইন ডেস্ক দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫...

কাতারে ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। যদিও...

সংকট আতঙ্কে জ্বালানি মজুত: বাসা হয়ে উঠছে ‘ঝুঁকির পেট্রোলপাম্প’

বিশেষ প্রতিবেদন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশেও। তবে বাস্তবে জ্বালানি সরবরাহে বড় কোনো সংকট না থাকলেও,...

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু

অনলাইন ডেস্ক পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার বিকেলে Islamabad-এ এ বৈঠকের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Al...

জনপ্রিয় সংবাদ