অনলাইন ডেস্ক

নয়াদিল্লি: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেছেন, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী মোদি আত্মসমর্পণ করেছেন। একই সঙ্গে মোদির নেতৃত্বের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বের তুলনা টেনে রাহুল বলেন, দুজনের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে এই সমালোচনা করেন রাহুল গান্ধী। ট্রাম্প দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি তার সঙ্গে দেখা করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন এবং বলেছিলেন— ‘স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি?’ আমি বলেছিলাম— ‘হ্যাঁ।’”
ট্রাম্প এ সময় ভারতের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্কের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, ভারত বর্তমানে ‘প্রচুর শুল্ক দিচ্ছে’ এবং রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করেন। ভিডিওটির ক্যাপশন ছিল— ‘ফারাক সামঝিয়ে স্যারজি’, যার অর্থ ‘পার্থক্যটা বুঝুন স্যারজি’।
পোস্টে রাহুল লেখেন, “আমি বিজেপি-আরএসএসের লোকদের এখন খুব ভালো করে চিনি। এদের ওপর সামান্য চাপ দিলেই এরা ভয়ে পালিয়ে যায়। ট্রাম্পের দিক থেকে সংকেত আসতেই ফোন উঠল— ‘মোদিজি, আপনি কী করছেন?’ এরপরই নরেন্দ্র মোদি আত্মসমর্পণ করলেন এবং ‘ইয়েস স্যার’ বলে ট্রাম্পের নির্দেশ অনুসরণ করলেন।”
তিনি আরও লেখেন, “এক সময় ছিল, যখন কোনও ফোন আসেনি— বরং সপ্তম নৌবহর এসেছিল। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে মার্কিন সপ্তম নৌবহর এসেছিল, অস্ত্র ও রণতরি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী তখন বলেছিলেন— আমাকে যা করতে হবে, আমি তাই করব। এটাই আসল পার্থক্য।”
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় রফতানি পণ্যের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে রাশিয়ার তেল কেনার শাস্তি হিসেবে।
ট্রাম্প বলেন, “মোদির সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। তিনি আমার ওপর খুব একটা খুশি নন। কারণ, ভারত এখন প্রচুর শুল্ক দিচ্ছে। তারা আগের মতো তেল কিনছে না— তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।”
আগস্ট মাসে আরোপিত এই শুল্কের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে একাধিক দফা বাণিজ্য আলোচনা হয়েছে এবং দুই নেতার মধ্যে অন্তত চারবার ফোনালাপ হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


