রবিবার, মে ১০, ২০২৬

আদালতের আদেশ কার্যকর করতে এক লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ!

পাঠক প্রিয়

রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত লন্ডন প্রবাসীর এক বাড়ি নিয়ে আদালতের আদেশ কার্যকরে ভয়াবহ জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ জালিয়াতির সাথে সরাসরি জড়িত স্বয়ং আদালতেরই লোকজন। আদালতে চলমান মামলার মূল নথিতে টেম্পারিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আদালতের আদেশ কার্যক্রর করতে গিয়ে ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে এক লক্ষ টাকার ঘুষ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত বর্তমানে লন্ডন প্রবসী ব্যবসায়ী ম্যাজিক কম্পিউটারের স্বত্ত্বাধিকারী মো. মনজুর হোসেন ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার পুরাতন ভবন নং- ১১৪/বি-১, নতুন ভবন নং- ৩৪/এ, সডক নং-৫ এর রুপায়ন ক্রাউন ইম্পেরিয়াল নামক ভবনের ১ম তলার ফ্ল্যাট নং-বি-১ এর দুটি পার্কিংসহ ২৯৭২ বর্গফুটের ফ্ল্যাটটির মালিক যার বাজার মূল্য কমপক্ষে ৭ কোটি টাকা\ তিনি ফ্ল্যাটটি শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের বনানী শাখায় মর্টগেজ রেখে এক কোটি ২৬ লাখ ৮২ হাজার ৩শ ৬৩ টাকা লোন নেন তিনি। যা বেড়ে সুদসহ হয় এক কোটি ৭০ লাখ ৪১ হাজার ৫শ ৫৫ টাকা ৩১ পয়সা। এর বিপরীতে মনজুর হোসেন নিয়মিত ব্যাংকের লোন পরিশোধও করতে থাকেন। কিন্তু ২০১৩ ও ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে অগ্নিকান্ডে দুদফা ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি লোন পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন। বিষয়টি তিনি ব্যাংককে লিখিতভাবে জানান। একপর্যায়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন ও পরিবার নিয়ে লন্ডনে চলে যান। বিদেশে গিয়েও তিনি ব্যাংকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। নিয়মিত লোন পরিশোধ করতে না পারায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে মামলা করে। মনজুর হোসেন ফ্ল্যাটটি ভাড়া দিতে ২০১৭ এর জুনে নোটিশ দেন। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের বনানী শাখার তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান মো. গোলাম কুদ্দুস নিজের পরিচয় গোপন করে স্ত্রীকে দিয়ে মাসিক ৫০ হাজার টাকায় ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। এরইমধ্যে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ ফেবব্রুয়ারি, ঢাকার ২ নম্বর অর্থঋণ আদালত ব্যাংকের পক্ষে অর্থঋণ আদালত আইনের ৩৩ (৭) ধারানুযায়ী ব্যাংকের পক্ষে সার্টিফিকেট ইস্যু করে। পরবর্তীতে মামলাটি ঢাকার ৬ নং অর্থঋণ আদালতে বদলী হয়। যা অর্থজারী মামলা নং-৪৭০/২০২৫) হিসেবে বিচারাধীন আছে। বিগত ১৫/১০/২০২৫ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালত ফ্ল্যাটচির জন্য দখলী পরোয়ানা ইস্যু করে। উক্ত দখলী পরোয়ানা আগামী ৫ নভেম্বর দাখিলের জন্য দিন ধার্য্য করা হয়। আগামী ১০ নভেম্বর দখলী পরোয়ানা তামিল অন্তে ফেরতের জন্য দিন ধার্য্য করা হয়।

ইতিমধ্যে ব্যবসায়ী মঞ্জুর হোসেন অর্থঋণ আদালতের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে ২৩ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করেন যা শুনানীর জন্য অপেক্ষমান আছে। জানা গেছে, আদালতের বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই গুলশানের জনৈক ব্যবসায়ী সাজেদা কোল্ড স্টোরেজ (পিডিটি) এলটিডির মোঃ নেওয়াজ আহমেদের কাছে আড়াই কোটি টাকায় ফ্ল্যাটটি বিক্রির চুক্তি করে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা। এরপেছনে কলকাঠি নাড়েন শাহাজালাল ইসলামী ব্যাংক, কর্পোরেট হেড অফিসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট তারিকুল ইসলাম। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিগত ১৫/১০/২০২৫ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালতের আদেশের পর থেকেই জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নেয় শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও ভবিষ্যৎ খরিদদার মোঃ নেওয়াজ আহমেদে। এজন্য আদাালতের জারিকারক ও সংশ্লিষ্ট অফিসারদের ম্যানেজ করে। দখলী পরোয়ানা আগামী ৫ নভেম্বর দাখিলের জন্য দিন ধার্য্য করা হলেও ২৩ অক্টোবর দখলী পরোয়ানা কার্যক্রর করতে ফ্ল্যাটটিতে যান ঢাকা জেলা জজ আদালতের জারিকারক মো: ইয়াসিন, কামরুজ্জামান, কামরুল ইসলাম , গুলশানের জনৈক ব্যবসায়ী সাজেদা কোল্ড স্টোরেজ (পিডিটি) এলটিডি মোঃ নেওয়াজ আহমেদ, তাার সহযোগী বাবলু মো: আলিম উদ্দিন, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের বনানী শাখার কর্মকর্তা আহসান হাবিবসহ ২৫ থেকে ৩০ জন। তারা ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পুলিশের সহায়তা চান।

আদালতের আদেশ না থাকায় ওসি কোন পুলিশ দেননি। তারা নিজেরাই ফ্ল্যাটটিতে যান দখলী পরোয়ানা কার্যক্রর করতে। এসময় ফ্ল্যাটটিতে অবস্থান করছিলেন ফ্ল্যাটটির মূল মালিক মঞ্জুর হোসেনের ভাড়াটিয়া এস. এ. কবির নোটনের স্ত্রী রুমানা কবির, শিশু সন্তান , ৭৫ বছর বয়সী ক্যান্সার আক্রান্ত শাহেলা পারভীনসহ অন্যরা। আদালতের আদেশে মালিকানা বদল হয়েছে ও তা কর্যক্রর করতে দরজা খুলতে বলেন। দরজা খোলার সাথে সাখেই ২৫/৩০ জন লোক ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেই তালা পরিবর্তন করে ফেলেন ও ভাড়াটিয়ার জিনিসপত্র নামাতে শুরু করেন। স্ত্রীর ফোন পেয়ে ভাড়াটিয়া এস. এ. কবির নোটন দ্রæত বাসায় ফেরেন ও আদালতের আদেশ দেখতে চান। তারা কোন আদেশ না দেখিয়ে নানা ধরণের হুমকি দেন। মুহূর্তের মধ্যেই বাসার সমস্ত মালামাল নামিয়ে তাদেরকে বাসা থেকে বের করে দেন। ভাড়াটিয়া এস. এ. কবির নোটন ক্যান্সার আক্রান্ত শাশুড়ি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে মহাবিপদে পড়ে যান। এরপর যা ঘটে তা আরো ভয়াবহ। আদালতের আদেশ কার্যক্রর করতে যাওয়া লোকজন এস. এ. কবির নোটনকে বাসায় থাকতে দিবেন ও নতুন মালিকের সাখে চুক্তি করিয়ে দেয়ার আশ^াস দিয়ে তার কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু কোন প্রকার চুক্তি বা বাসায় থাকার ব্যবস্থাও করেন নি টাকাও ফেরত দেননি। তার সাখে প্রতারণা করা হয়েছে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি ২৭ অক্টোবর ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় রাজধানী গুলশানের জনৈক মোঃ নেওয়াজ আহমেদ, তার কর্মচারী মোঃ বাবলু, মোঃ আলিম উদ্দিন, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কর্পোরেট হেড অফিসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ তারিকুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ২৯ অক্টোবর ভাড়াটিয়া পরিবারের লোকজন নিয়ে বাসায় গেলে বহিরাগতরা চলে যায় ও তিনি বাসায় অবস্থান করেন। ২৯ অক্টোবর পুনরায় গুলশানের জনৈক মোঃ নেওয়াজ আহমেদ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ফ্ল্যাটটি দখল নিতে যান। কিন্তু পুলিশ থাকায় তা পারেননি।

এদিকে ওইদিন রাত সোয়া সাতটার দিকে ঢাকা জেলা জজ আদালতের জারিকারক মো: ইয়াসিন, কামরুজ্জামান, কামরুল ইসলাম আবার ফ্ল্যাটটিতে যান ও ২৩ অক্টোবর দখলী পরোয়ানা কার্যক্ররের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরনে। ভাড়াটিয়া এস. এ. কবির নোটনের আইনজীবীরা এসময় জারিকারকদের কাছে রাতে ফ্ল্যাটটিতে আসার বিষয়ে আদালতের আদেশ দেখাতে বললে তারা তা দেখাতে পারেননি। আদালতের আদেশ ছাড়া কেন এসেছেন জানতে চাইলে তারা একপর্যায়ে বলেন ঢাকা জজকোর্টের নেজারত বিভাগের নায়েব নাজির রাজু খান তাদেরকে পাঠিয়েছেন। তবে রাজু খান বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। ৩০ অক্টোবর ব্যবসায়ী মঞ্জর হোসেনের আইনজীবীরা ঢাকার ৬ নং অর্থঋণ আদালতে অভিযোগ জানাতে যান। কিন্তু বিচারক ছুটিতে না থাকায় লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেননি। তবে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। একইসাথে নেজারত বিভাগের নাজির মতিউর রহমানকে বিষয়টি জানিয়েছেন। নেজারত বিভাগের নাজর মতিউর রহমান প্রবাসী মঞ্জুর হোসেনের আইনজীবীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলার মূল নথিতে দেখেন ভিন্ন হাতের লেখা যা পরবর্তীতে লেখা হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ নভেম্বরের আগে দখলী পরোয়ানা দাখিলের জন্য ধার্য্য রয়েছে। দখলী পরোয়ানা তামিলের জন্য ওইদিন সকাল ৯ ঘটিকায় ঢাকা জেলা জজ আদালতের নেজারত বিভাগের সামনে সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকবেন এবং নালিশী ভূমিতে সরেজমিনে গমন করবেন। এরআগে আইনত যাওয়ার সৃযোগ নেই। লন্ডন প্রবাসী ব্যবসায়ী মঞ্জুর হোসেন বলেন, ব্যাংক নিজে আমার সাথে প্রতারণা করেছে।

ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমি অল্পদিন নিয়মিত লোন পরিশোধ করতে পারিনি। এরপর বারবার যোগাযোগ করেছি। লিখিত আবেদন করেছি। আমি ব্যাংকের কাছে ৩৩ লক্ষ টাকা পাই। ব্যাংকটির লোন গ্রহণ করতে কোন আগ্রহ নেই। তাদের মূল উদ্দেশ্য আমার ফ্ল্যাট দখল করে অবৈধ বাণিজ্য করা। তারা মামলা করেছে আদালতে। আদালতের আদেশ পর্যন্ত মানছে না। তার আইনজীবী ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষার রিট করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সর্বশেষ সংবাদ

ময়মনসিংহ ও সিলেটে ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে

অনলাইন ডেস্ক দেশের দুই অঞ্চলে সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সম্ভাব্য এই দুর্যোগে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০...

ডিএমপিতে পাঁচ পরিদর্শক বদলি

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পাঁচজন পরিদর্শককে বদলি করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) মো. আমীর খসরুর স্বাক্ষরিত এক আদেশে...

যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা দিচ্ছে চীন—মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

অনলাইন ডেস্ক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই তেহরানকে নতুন করে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন—এমন তথ্য দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। মার্কিন...

হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ১৬৯

অনলাইন ডেস্ক দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫...

কাতারে ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। যদিও...

জনপ্রিয় সংবাদ