অনলাইন ডেস্ক

কিয়েভ/ওয়াশিংটন: অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মিখাইল পোডোলিয়াক। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সামরিকায়ন কার্যক্রম ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি।
রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও দেশে সামরিক আইন জারি থাকার অজুহাতে নির্বাচন আহ্বান করা হয়নি। এ পরিস্থিতিকে সামনে রেখে রাশিয়া জেলেনস্কিকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে দাবি করেছে, বর্তমানে ইউক্রেনের আইনগত ক্ষমতা দেশটির পার্লামেন্টের হাতে রয়েছে। মস্কোর মতে, এই বিতর্কিত অবস্থান শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের জন্য চাপ বাড়িয়েছেন। অতীতে জেলেনস্কিকে ‘স্বৈরাচার’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। এর জবাবে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচন আয়োজন করতে প্রস্তুত, তবে এর জন্য পশ্চিমা মিত্রদের পক্ষ থেকে শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রয়োজন।
এক সাক্ষাৎকারে পোডোলিয়াক বলেন, “নির্বাচন আয়োজনের বড় বাধা হলো অর্থায়ন। বাজেট ঘাটতির কারণে এটি বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের সীমিত বাজেট সামরিক প্রস্তুতি জোরদার এবং যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক কর্মসূচিতে ব্যয় করাই জরুরি।
এর মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং তিনি আগামী রবিবার ফ্লোরিডায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন। এই বৈঠক শান্তিচুক্তির প্রচেষ্টার অংশ বলে জানান তিনি।
তবে জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, একটি বৈঠকেই চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। উভয় পক্ষই যতটা সম্ভব অগ্রগতির চেষ্টা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
— সিএনএন ও রয়টার্স


