
নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা (আরও) এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা (এআরও) হিসেবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিজস্ব কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে দলটির প্রতিনিধিদল এ প্রস্তাব তুলে ধরে।
সংলাপে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনেক ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা রক্ষা করতে ব্যর্থ হন। এ কারণে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে নির্বাচনী দায়িত্বে সরাসরি ইসির কর্মকর্তাদের নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। দলটি মনে করে, ইসির কর্মকর্তা নিয়োগ দিলে প্রশাসনিক চাপ বা রাজনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কা কমবে।
বিএনপির প্রতিনিধি দল আরও দাবি তোলে,
-
নির্বাচনী কাজে মাঠ প্রশাসনের সম্পৃক্ততা সীমিত করা,
-
ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে মাঠে নামানো,
-
এবং বিরোধী দলের প্রতি হয়রানি বন্ধের জন্য সরকারের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিশ্চিত করা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান আজকের সংলাপে বলেন, নির্বাচনে কয়েক লাখ নির্বাচন কর্মকর্তা প্রয়োজন। ইসির এত লোকবল নেই। কিন্তু ইসির যতটুকু জনবল আছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। ৩০০ আসনে সরকারের কাছ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহাকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ধার করে আনা হয়। ইসির এটুকু জনবল আছে।
ইসির উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘একবার সাহস করে এই সিদ্ধান্তটা নেন যে রিটার্নিং অফিসার আপনাদের নির্বাচন কমিশন থেকে থাকবে। অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার আপনাদের নির্বাচন কমিশনের ডেডিক্যাটেড লোকেরা হবে। এই একটা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে।’
আব্দুল মঈন খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চারটি বোতাম আছে। একটি হচ্ছে ডিসি, একটি হচ্ছে এসপি, একটি হচ্ছে ইউএনও আরেকটি হচ্ছে ওসি। এ চারটি বোতাম টিপা হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে, এরপর ৩০০ আসনে নির্বাচনের ফলাফল বের হয়ে আসে। এ পদ্ধতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। তিনি এখানে ইসিকে শক্ত ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁরা ইসিকে সব সহায়তা করবেন। কিন্তু ইসিকে শক্ত থাকতে হবে। সরকারের কাছে ইসি নতজানু থাকলে নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।


