অনলাইন ডেস্ক

ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণ, উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃজন, সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তনসহ রাষ্ট্রব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে উচ্চকক্ষে ২০ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত এবং বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের কথাও জানিয়েছে দলটি।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহারে এসব প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
ইশতেহারের রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার অংশে বলা হয়েছে, সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে পুনঃস্থাপন করা হবে। এছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, অগণতান্ত্রিক সংশোধনী বাতিল, ৩১ দফার ভিত্তিতে সংস্কার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
দলটি আরও জানিয়েছে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কার আনা হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং প্রতিহিংসামুক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।
ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটকে রাষ্ট্রক্ষমতার একমাত্র বৈধ উৎস হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে এবং রাষ্ট্রের সব স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের কথাও বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপি বলেছে, জাতি গঠন মানে শুধু রাষ্ট্র পরিচালনা নয়, বরং বিভাজন অতিক্রম করে একটি অভিন্ন জাতীয় সত্ত্বা নির্মাণ। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন দূর করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দলটি ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে, যার মাধ্যমে অতীতের রাজনৈতিক বিভাজন ও সংঘাত নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।


