নিজস্ব প্রতিবেদক

শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে জামায়াত নেতাদের অসহযোগিতার কারণে—এমন দাবি করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি হত্যাকাণ্ডকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
মাহদী আমিন জানান, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বসার আসন নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াতে ইসলামীর শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হন।
এই ঘটনার পর সারাদেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, শেরপুরে সবার জন্য নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দ ছিল। তবে জামায়াত নেতাকর্মীরা আগে থেকেই সেসব আসন দখল করে রাখেন এবং বিকল্প পথ ব্যবহারের অনুরোধও মানেননি। চেয়ারে বসার মতো তুচ্ছ বিষয় থেকে এমন সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, শেরপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, কারা এ ঘটনায় মদদ দিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
মাহদী আমিন দাবি করেন, সংঘর্ষে বিএনপির অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা ফ্যাসিবাদী আচরণে ফিরতে চাই না। দায় চাপানোর রাজনীতি নয়, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”
বিএনপি শান্তিপূর্ণ ও বিতর্কমুক্ত নির্বাচন চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে। শেরপুরের মতো ঘটনা যাতে আর কোথাও না ঘটে, সে বিষয়ে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার থেকেই ‘বাংলাদেশ উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক একটি পডকাস্ট শুরু হচ্ছে। এতে ধারাবাহিকভাবে বিএনপির রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি তুলে ধরবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।


