অনলাইন ডেস্ক

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং একই দিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পৃথক উচ্চপর্যায়ের ফোন ও ভিডিও আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, একই দিনে এমন কূটনৈতিক যোগাযোগ বিরল এবং এটি বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে চীনের সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত বহন করে।
একই দিনে বিরল কূটনৈতিক যোগাযোগ
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার শি প্রথমে পুতিনের সঙ্গে ভিডিও কলে আলোচনা করেন এবং কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে অংশ নেন। একই দিনে দুই পরাশক্তির নেতার সঙ্গে এই ধারাবাহিক যোগাযোগকে বিশ্লেষকরা গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যোগাযোগের মাধ্যমে চীন বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখতে চায়।
কী আলোচনা হয়েছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ফোনালাপে বাণিজ্য, জ্বালানি, তাইওয়ান, ইরান এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া ইরান পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় চীন–রাশিয়া কৌশলগত সহযোগিতা ও সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে কথা হয়েছে।
চীন–যুক্তরাষ্ট্র ও চীন–রাশিয়া সম্পর্কের বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, শি জিন পিং একদিকে মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছেন, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছেন। দুই দেশের সঙ্গে যোগাযোগ চীনের বৈশ্বিক কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
পুতিন–শি আলোচনায় দুই দেশ সম্পর্ককে বৈশ্বিক অস্থিরতার সময় গুরুত্বপূর্ণ স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে বলেও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।
চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
এই ফোনালাপ এমন সময় হয়েছে, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান ইস্যু এবং যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্য সম্পর্কসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে উত্তেজনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীন নিজেকে বিকল্প স্থিতিশীল বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে।


