আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ক্ষমতা দুর্বল করতে সরাসরি সামরিক অভিযানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প বিবেচনা করছে—এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস।
পত্রিকাটির এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারির শুরুতে ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের আদলে ইরানের ভেতরে সীমিত কমান্ডো অভিযান চালানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন এবং দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থায় ধস নামানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ইরানের ভেতরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমনের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সামরিক ও কূটনৈতিক—দুই ধরনের বিস্তৃত বিকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব বিকল্পের মধ্যে রয়েছে সরাসরি সেনা অভিযান, বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে গোপন হামলা এবং একই সঙ্গে কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক চ্যানেলে ইরানকে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের আপসের ইঙ্গিত দেয়নি। বরং ইরানি কর্তৃপক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, দেশটির ওপর যেকোনো মার্কিন হামলার জবাব হবে দ্রুত ও চূড়ান্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারেও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।


