বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬

ভারতের উত্তর-পূর্বে বাংলাদেশের মাছের ব্যাপক চাহিদা

পাঠক প্রিয়

অনলাইন ডেস্ক

আগরতলা, ত্রিপুরা – ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার বাসিন্দা এবং সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মনোজ চৌধুরী স্থানীয় বাজার থেকে গত শনিবার টেংরা, পাবদা ও মেনি (ভেদা) মাছ কিনেছেন। পরদিন মোবাইল ফোনে তিনি জানান, “মাছের আসল স্বাদ তো বাংলার মাছে। প্রতিনিয়তই বাজার থেকে কিনে আনি। দামও খুব বেশি না।”

বাংলাদেশের মাছের প্রতি অন্যরকম আবেগ ব্যক্ত করেছেন হকার্স মার্কেটের কসমেটিকস ব্যবসায়ী উত্তম পাল। তিনি জানান, তাঁর দাদুর বাড়ি বাংলাদেশের আখাউড়া অঞ্চলে। তাই নিয়মিত বাজার থেকে দাদুর দেশের মাছ কেনেন।

সেখানে শুধু ত্রিপুরা নয়, ভারতের সেভেন সিস্টার্স (উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্য) – আসাম, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল ও ত্রিপুরা – সব জায়গাতেই বাংলাদেশের মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে এসব রাজ্যে প্রতিনিয়তই মাছ রপ্তানি করা হয়। মূলত ত্রিপুরায় রপ্তানি করা হলেও সেখান থেকে বাকি রাজ্যগুলোতেও পৌঁছে যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন কোটি টাকার বেশি মাছ রপ্তানি করা হয়। সর্বশেষ গত সোমবার এক কোটি ৫০ লাখ টাকার মাছ পাঠানো হয়েছে। প্রতি কেজি মাছের দাম আড়াই ডলার। রপ্তানিকৃত মাছের মধ্যে রুই, কাতল, মৃগেল, পাঙ্গাশ, টেংরা, পাবদা, মেনি ইত্যাদি রয়েছে। এর মধ্যে পাঙ্গাশ মাছ সবচেয়ে বেশি যায়, যা পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

স্থানীয়ভাবে সংগ্রহের পাশাপাশি একাধিক জেলা থেকে আসা মাছ হিমায়িত করে ভারতে পাঠানো হয়। ভারতের সেভেন সিস্টার্স মূলত স্থল ও পাহাড় বেষ্টিত; সমুদ্র বা বড় কোনো নদী না থাকায় স্থানীয় মাছ সীমিত। স্বাদে ভালো, সহজলভ্য এবং তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় বাংলাদেশি মাছের বাজার সেখানে বিস্তৃত। এ বাণিজ্য দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককেও শক্তিশালী করছে।

গত বছর দুই দেশের সম্পর্কের কিছু উথাল-পাথাল, যেমন চিন্ময় দাস গ্রেপ্তার ইস্যু এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ, ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশের মাছের চাহিদা কমেনি।

আখাউড়া স্থলবন্দর মাছ রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ফারুক বলেন, “দিন দিন ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে বাংলাদেশের মাছের চাহিদা বেড়ে চলেছে। ওপারের বাজার বাংলাদেশের মাছের ওপর নির্ভরশীল।”

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেসার উদ্দিন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, “গতকাল শুক্রবার ৭০.১৫ টন, অর্থাৎ এক লাখ ৭৫ হাজার ৩৭৫ ডলার মূল্যের মাছ ভারতে রপ্তানি করা হয়েছে। তবে রপ্তানি কাগজের জটিলতায় মাঝে মাঝে দেরি হয়। অনলাইন পদ্ধতি চালু হলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। শেডের অভাবে মাছ রাখার সমস্যাও থাকে।”

আখাউড়া উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, খুলনা, সাতক্ষীরা ও অন্যান্য জেলা থেকে আসা হিমায়িত মাছও পরীক্ষা করে ‘ফিশ হেলথ সার্টিফিকেট’সহ ভারতে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশি মাছের এই ক্রমবর্ধমান বাজার দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে দৃঢ় করছে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করছে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

সর্বশেষ সংবাদ

‘সার্ভিস’ শব্দের বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কী মানুষের মুক্তি ঘটেছে?

সুফি সাগর সামস্ ভাষা, ক্ষমতা ও মানবমর্যাদা নিয়ে একটি পুনর্বিবেচনা সভ্যতার ইতিহাসে শব্দ কখনো কেবল শব্দ নয়; তারা একটি যুগের সামাজিক...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, শুক্রবার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের...

মানবমস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের ভেতর আরেক মহাবিশ্ব

সুফি সাগর সামস্ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি কি কোনো নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা কৃষ্ণগহ্বর? হয়তো নয়। হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর কাঠামো হলো মানবমস্তিষ্ক—কারণ এই ক্ষুদ্র জৈবিক অঙ্গই সমগ্র মহাবিশ্বকে...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা না গেলে একসময় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে...

জনপ্রিয় সংবাদ